আতেফ নাজিব আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অন্যদের অনুপস্থিতিতে বিচার করা হয়েছে। চতুর্থ ফৌজদারি আদালত বাশার আল-আসাদ ও মাহের আল-আসাদকে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালত বাশার আল-আসাদকে একাধিক ব্যক্তিকে, যার মধ্যে শিশুও রয়েছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার পাশাপাশি নির্যাতন, বেআইনি আটক ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছেন।
আতেফ নাজিবের বিরুদ্ধে হত্যা, নির্যাতন ও বেআইনি আটকের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমনে সরাসরি গুলি ব্যবহারে অংশ নেয়া এবং আটককেন্দ্রে পদ্ধতিগতভাবে ব্যাপক হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছিল। এসব নির্যাতনে আটক ব্যক্তিদের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
বাশার আল-আসাদের চাচাতো ভাই আতেফ নাজিব আগে দারা প্রদেশের রাজনৈতিক নিরাপত্তা শাখার প্রধান ছিলেন। দারা থেকেই ২০১১ সালে সেই গণআন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, যা পরে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। অঞ্চলটি দীর্ঘদিন বাশার আল-আসাদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে আতেফ নাজিবের দুই বছরের কঠোর শাসন সেখানে সরকারবিরোধী মনোভাব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গত ডিসেম্বরে সিরিয়ার কর্তৃপক্ষ বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। ২৪ বছর দেশ শাসন করার পর তার বিরুদ্ধে নিজ দেশের এটি ছিল প্রথম আইনি পদক্ষেপ।
বর্তমান সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমাদ আল-শারার নেতৃত্বে বিদ্রোহীরা ১১ দিনের দ্রুত অভিযানে পাঁচ দশকের আসাদ পরিবারের শাসনের অবসান ঘটালে বাশার আল-আসাদ রাশিয়ায় পালিয়ে যান।
গত কয়েক মাসে সিরিয়ার সরকার সাবেক সরকারের শত শত কর্মকর্তা ও নিরাপত্তাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে সাবেক সরকারের শীর্ষপর্যায়ের নেতাদের বেশির ভাগই এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাদের অধিকাংশ রাশিয়ায় অবস্থান করছেন।
গত এক দশকে সিরিয়ার বিরোধীরা পশ্চিমা দেশগুলোর আদালতে বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে কোনো উদ্যোগই সফল হয়নি। দারায় আন্দোলন শুরুর পর প্রাথমিক দমন-পীড়ন এবং পরে সিরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বাশার আল-আসাদের সেনা ও অনুগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় হাজারো বেসামরিক মানুষ নিহত হন। ২০১১ সালের শেষ নাগাদ সিরিয়া পূর্ণাঙ্গ গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।





