চীনের মধ্যাঞ্চলে টাইফুন ডলফিন, ভারী বৃষ্টিতে বন্যা-ভূমিধসের শঙ্কা

টাইফুন ডলফিনের পর জলমগ্ন সড়ক দিয়ে বৈদ্যুতিক বাইক চালিয়ে যাচ্ছেন একব্যক্তি
টাইফুন ডলফিনের পর জলমগ্ন সড়ক দিয়ে বৈদ্যুতিক বাইক চালিয়ে যাচ্ছেন একব্যক্তি | ছবি: রয়টার্স
0

চলতি বছর চীনে আঘাত হানা শক্তিশালী টাইফুন ডলফিন এখন দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশ হুবেইর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর প্রভাবে সম্ভাব্য অতিবৃষ্টি ও ভূমিধসের আশঙ্কায় আজ (মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট) প্রদেশটির পর্যটন কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং নির্মাণ প্রকল্পগুলো স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

টাইফুন ডলফিনের বিশাল মেঘমালা প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে চীনের উপকূলে আছড়ে পড়েছে। হুবেই প্রদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকায় চরম বৃষ্টিপাতের সতর্কতা জারি করেছেন আবহাওয়াবিদেরা। চীনের ন্যাশনাল মেটিওরোলজিক্যাল সেন্টার ভারী বৃষ্টির জন্য দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ জারি করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় প্রদেশটিতে ২৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে।

হুবেই প্রদেশের অটোমোবাইল ও হাই-টেক ইলেকট্রনিক্স হাব হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলো বন্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। জনপ্রিয় থ্রি জর্জেস ড্যামসহ পর্যটন কেন্দ্রগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। প্রদেশের ১০৭টি প্রধান মহাসড়ক ও জলপথ নির্মাণ প্রকল্পের মধ্যে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ ২৬টি প্রকল্পের কাজ স্থগিত করা হয়েছে।

টাইফুন ডলফিনের প্রভাব হুবেই ছাড়িয়ে ১ হাজার কিলোমিটার উত্তরের রাজধানী বেইজিং পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। বেইজিংয়ের চারটি শহরতলিতে প্রথম স্তরের জরুরি বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাত থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় বেইজিংয়ে তাদের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের এক-তৃতীয়াংশ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে প্রতিবেশী হেনান প্রদেশেও আকস্মিক বন্যার জন্য ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে জাপানও টাইফুন চ্যান-হোম বা ১৫ নম্বর টাইফুনের প্রভাবে ভূমিধস ও প্রবল বাতাসের আশঙ্কায় প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এএম