ইয়েমেনের আল-মাখা ও মারিবে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

লোহিত সাগরের বন্দরনগর আল-মাখায় বারবার হামলা চালিয়েছে হুতিরা
লোহিত সাগরের বন্দরনগর আল-মাখায় বারবার হামলা চালিয়েছে হুতিরা | ছবি:
0

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, হুতিরা দেশটির লোহিত সাগর উপকূলের বন্দরনগর আল-মাখা এবং মধ্যাঞ্চলীয় মারিবের আবাসিক এলাকায় নতুন করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। গতকাল (সোমবার, ১০ আগস্ট) এর এসব হামলায় হতাহতের কোনো তথ্য জানায়নি ইয়েমেনি বাহিনী। এর এক দিন আগে আল-মাখায় হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত সাতজন নিহত ও ৩০ জন আহত হন। হামলায় শহরের বন্দর এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। আল-মাখা মোচা নামেও পরিচিত। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

ইয়েমেনের স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার দেশটির দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলীয় শাবওয়া প্রদেশে হুতিদের ড্রোন হামলায় সরকারি বাহিনীর দুই সেনা নিহত ও সাতজন আহত হয়েছেন। ইয়েমেনি বাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া একাধিক পোস্টে জানিয়েছে, তারা পূর্বাঞ্চলীয় আল-জাওফ প্রদেশ, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সাদা প্রদেশ এবং মধ্যাঞ্চলীয় মারিব প্রদেশের আল-তিবাস এলাকায় হুতি বিদ্রোহীদের অবস্থান ও স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

পাল্টাপাল্টি এসব হামলা ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলায় পরিণত হয়েছে। এতে দেশটির সংঘাত নতুন করে বড় ধরনের উত্তেজনার দিকে যাচ্ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে শুরু করা যুদ্ধের পর ইয়েমেনে সংঘাত আবার তীব্র হয়েছে। ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুতিরা ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে। এর পর ২০১৫ সালের মার্চে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন একটি জোট ইয়েমেন সরকারের পক্ষে যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে।

সংঘাতে কয়েক লাখ মানুষ নিহত হওয়ার পর যুদ্ধরত পক্ষগুলোর মধ্যে অচলাবস্থা তৈরি হয়। পরে ২০২২ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি হয়। এতে দেশজুড়ে বড় ধরনের লড়াই বন্ধ হয়। তবে ১৩ জুলাই সানা বিমানবন্দরের রানওয়েতে সৌদি আরবের বিমান হামলার পর আবার সহিংসতা শুরু হয়। ওই হামলায় হুতিদের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলকে বহনকারী ইরানি বিমান অবতরণ করতে পারেনি।

এর পর হুতিরা দক্ষিণ-পশ্চিম সৌদি আরবের আবহা বিমানবন্দরে হামলা চালায় এবং লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজ চলাচলে অবরোধের ঘোষণা দেয়। তারা সৌদি জাহাজ ও দেশটির তেল স্থাপনাতেও হামলা চালিয়েছে। এতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আরও বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে হুতিদের নিয়ন্ত্রিত হোদেইদাহ ও কামারান দ্বীপে হামলা চালিয়েছে। হুতিদের বিরুদ্ধে স্থল অভিযান চালাতে ইয়েমেনি বাহিনীর সামনের সারির অবস্থানগুলোতেও তারা সেনা মোতায়েন বাড়িয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে সংযমের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের ইয়েমেনবিষয়ক দূত হান্স গ্রুন্ডবার্গ শুক্রবার সতর্ক করে বলেন, ২০২২ সালের এপ্রিলের জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এখন ইয়েমেনে আবার বড় আকারের সংঘাত শুরুর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। তার ভাষ্য অনুসারে, এই উত্তেজনা ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতিতে অর্জিত অগ্রগতি নষ্ট করার পাশাপাশি ইয়েমেনকে আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এর পরিণতি দেশটির মানুষের জন্য ভয়াবহ হতে পারে।

এএম