হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান-ওমান চুক্তির আশা যুক্তরাষ্ট্রের; মক্কায় সুন্নি জোটের প্রতিরক্ষা চুক্তি সই

হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাচ্ছে তেলবাহী জাহাজ
হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাচ্ছে তেলবাহী জাহাজ | ছবি: রয়টার্স
0

দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে বন্ধ থাকা হরমুজ প্রণালি ফের চালু হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ইরান ও ওমানের মধ্যে চলমান আলোচনায় বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। শিগগির একটি চুক্তির মাধ্যমে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা গত ৭ আগস্ট রয়টার্সকে বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমান ও ইরানের মধ্যে অগ্রগতি হয়েছে; আমরা শিগগির একটি চুক্তির আশা করছি।’ তিনি জানান, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে চুক্তি ঘোষণা হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর দেয়া অবরোধ তুলে নেবে। তবে ওয়াশিংটনের পদক্ষেপ নির্ভর করবে ইরান কতটুকু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে তার ওপর।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রতি পাঁচ ব্যারেলের একটি এই প্রণালি দিয়ে সরবরাহ হতো। যুদ্ধের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইরান তেলবাহী ট্যাংকারের ওপর টোল আদায় এবং অনুমতি ছাড়া প্রণালি পাড়ি দেয়া জাহাজে হামলা চালানোর যৌক্তিকতা দেখিয়েছে। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে মূল্যস্ফীতি উসকে উঠেছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসন বারবার চুক্তির ইঙ্গিত দিলেও ইরান সরাসরি আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করে এসেছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি উৎপাদক আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি পাড়ি দেয়ার সময় তাদের ১৫টি জাহাজে হামলা হয়েছে। এতে একজন ক্রু নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন।

মক্কায় সুন্নি জোটের প্রতিরক্ষা চুক্তি

আঞ্চলিক সংঘাত এবং উপসাগরীয় তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক শুক্রবার মক্কায় একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ এই তিন দেশের চুক্তি অনুযায়ী, যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। তুরস্কের দাবি, এই চুক্তি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। তবে শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ ইরানের সঙ্গে বাড়তে থাকা উত্তেজনার সময় এই জোট গঠিত হল।

এদিকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইল ও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান লড়াই থামাতেও মধ্যস্থতা করছে যুক্তরাষ্ট্র। লেবাননের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া তদারকির জন্য কয়েকটি দেশের সেনা মোতায়েনের ব্যাপারে লেবানন ও ইসরাইল একটি সংক্ষিপ্ত তালিকায় একমত হয়েছে। ওই তালিকা থেকে যুক্তরাষ্ট্র দেশগুলো বেছে নেবে।

আলোচনার পক্ষে পেজেশকিয়ান

গত জুনে সুইজারল্যান্ডে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স ও ইরানি কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে আর কোনো উচ্চপর্যায়ের সরাসরি আলোচনা হয়নি। গত ১৭ জুনের সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতি হলেও দুই দেশে অভ্যন্তরীণ বিরোধিতার কারণে ৭ জুলাই থেকে ফের সংঘাত শুরু হয়। তবে ২৯ জুলাইয়ের পর থেকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানে আর কোনো হামলা চালায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বেসামরিক রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনি ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) মধ্যে মতপার্থক্যের ইঙ্গিত শান্তি প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ৭ আগস্ট প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান আলোচনার বিরোধিতাকারী কট্টরপন্থিদের বিরুদ্ধে তার সরকারের নীতির পক্ষে অবস্থান নেন। তিনি বলেন, ‘আমেরিকার সবচেয়ে বড় শত্রু চীন, তবে তারা কেন লড়ছে না? চীন নিজের কাজ করছে এবং দিন দিন শক্তিশালী হচ্ছে। যদি আলোচনার মাধ্যমেই আমরা আমাদের অধিকার পেতে পারি, তাহলে কেন সেই পথে হাঁটবো না?’

এএম