লিমা শহরের পূর্বাঞ্চলে সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানদের জন্য নির্ধারিত একটি বিশেষ কারাগারে সাজা খাটছিলেন ৬৪ বছর বয়সী উমালা। গত বছর অর্থ পাচারের অভিযোগে তিনি ও তার স্ত্রী নাদিন হেরেদিয়া দোষী সাব্যস্ত হন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, দুটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার সময় ওডেব্রেখট (বর্তমানে নোভোনর নামে পরিচিত) এবং ভেনেজুয়েলা সরকারের কাছ থেকে তারা অবৈধ অর্থ গ্রহণ করেছিলেন। উমালার স্ত্রী হেরেদিয়া বর্তমানে ব্রাজিলে রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন।
আদালতের গত ১৫ জুলাইয়ের রায়ে বলা হয়, ওল্লান্তা মোজেস উমালা তাসোর বিরুদ্ধে পুরো ফৌজদারি প্রক্রিয়াটিই বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই রায় প্রকাশ করা হয়।
সাবেক সেনাকর্মকর্তা উমালা ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পেরুর প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ওডেব্রেখট দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে পেরুর যে চারজন সাবেক প্রেসিডেন্টের নাম জড়িয়েছিল, তাদের মধ্যে উমালাই প্রথম বিচারের মুখোমুখি হন।
কারাবন্দী থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উমালা আদালতে ‘হেবিয়াস কর্পাস’ আবেদন করেছিলেন। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে বলেন, প্রচারণা তহবিলে অর্থ গ্রহণের সময় পেরুর আইনে বিষয়টিকে অর্থ পাচার হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা ছিল না। ফলে যে আইনে তাকে সাজা দেয়া হয়েছে, তা ওই ঘটনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। উমালার আইনজীবী উইলফ্রেডো পেদ্রাজা আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
২০১৬ সালে ওডেব্রেখট লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ পেতে ৭ কোটি ৮৮ লাখ ডলার ঘুষ দেয়ার কথা স্বীকার করে। এরপর প্রতিষ্ঠানটি ৩৫০ কোটি ডলার জরিমানা দিতে রাজি হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি স্বীকার করেছিল যে ২০০৫ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে পেরুর কর্মকর্তাদের অন্তত ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার ঘুষ দেয়া হয়েছিল।





