ট্রাম্পের শুল্কের জবাবে আলোচনার পাশাপাশি পাল্টা প্রস্তুতি কানাডার

কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা
কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা | ছবি : সংগৃহীত
0

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ৫০ শতাংশ শুল্কের মুখে কৌশল বদলাচ্ছে কানাডা। আলোচনার পথ খোলা রেখেই সব প্রদেশকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিয়েছে অটোয়া। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির চাওয়া, সমঝোতা। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে পাল্টা পদক্ষেপ নিতেও প্রস্তুত উত্তর আমেরিকা।

কানাডার প্রায় ২ হাজার কোটি ডলারের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ নতুন মার্কিন শুল্ক যেন মরার উপর খাড়ার ঘা। আগামী আগস্ট থেকে শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও, এর আগে দুই দেশ সমঝোতায় পৌঁছাতে পারলে সিদ্ধান্তে আসতে পারে পরিবর্তন। ফলে উত্তর আমেরিকার দুই বৃহৎ অর্থনীতির মধ্যে নতুন করে শুরু হয়েছে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক তৎপরতা।

এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি দেশের সব প্রদেশ ও অঞ্চলের প্রধানদের নিয়ে ধারাবাহিক বৈঠক সেরেছেন। সরকারের লক্ষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় পুরো কানাডাকে একটি অভিন্ন অবস্থানে রাখা। অটোয়া এই কৌশলকে বলছে- ‘টিম কানাডা’। এরই মধ্যে প্রদেশগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ মোকাবিলায় তারা কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই এগোবেন।

কানাডার গবেষক অর্থনীতিবিদ সাকিবা জেবা বলেন, ‘প্রাইম মিনিস্টার কার্নি কিন্তু অনেক আগে থেকেই শুধু যে ট্রেড ডাইভারসিফাই করছেন সেটা না, ট্রেডিং পার্টনারও ডাইভারসিফাই করেছেন। সো ট্রেডিং এখন শুধুমাত্র ইউএসএর উপরে এক্সেসিভলি ডিপেন্ডেন্ট না। উনি চায়নার সাথে ডিল করেছেন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সাথে নতুন অনেক ডিল করেছেন, মিডল ইস্টের সাথে ডিল করেছেন এবং অনেক নিউ বান্ডেল অফ কমোডিটি—ট্রেডেবল কমোডিটি নিয়ে উনি নতুন নতুন পার্টনারের সাথে ট্রেড ডিল করতে যাচ্ছেন।’

আরও পড়ুন:

প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি চান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা না হলে দেশের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পাল্টা ব্যবস্থা নিতে। যদিও এখন পর্যন্ত নতুন কোনো বড় পাল্টা শুল্কের আভাস মেলেনি অটোয়া থেকে।

তিনি বলেন, ‘নেগোশিয়েশনটা একটু ভালো করে করতে পারি যাতে আমরাও কিছু সুবিধা পেতে পারি। আর আল্টিমেটলি ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুভবুদ্ধির উদয় হোক, সেটাই আমি চাই। সো লেটস নট হোপ ফর দ্যা ওয়ার্স্ট, লেটস জাস্ট হোপ ফর দ্যা বেস্ট।’

এদিকে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সমঝোতা না হলে আগস্টে নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তর আমেরিকার সরবরাহ ব্যবস্থা, উৎপাদন খাত এবং ভোক্তা বাজারে এর প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।

মূলত জুলাইয়ের প্রথম ভাগে কানাডা থেকে যাওয়া দাবানলের ধোঁয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন- কানাডাকে এর চড়া মূল্য দিতে হবে। তার সেই বক্তব্যের পরই ৫০ শতাংশ বাড়তি শুল্ক আরোপে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে- এটি কি শুধুই বাণিজ্য, নাকি অর্থনৈতিক অস্ত্র?

এফএস