বাজারের প্রত্যাশা ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেও নীতিনির্ধারকেরা এবার সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে শুরু হওয়া যুদ্ধ এ মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়াতে পারে।
ট্রাম্পই কেভিন ওয়ার্শকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেন। স্বাধীন এই মুদ্রানীতি নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর নজিরবিহীন চাপ সৃষ্টি করে ট্রাম্প বারবার সুদের হার কমানোর দাবি জানিয়ে আসছেন।
দুই দিনের রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে স্থানীয় সময় বুধবার দুপুর ২টায় ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটি (এফওএমসি) তাদের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে। এরপর সংবাদ সম্মেলন করবেন ওয়ার্শ।
সিএমই’র ফেডওয়াচ পর্যবেক্ষণ টুলের তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ বিনিয়োগকারীর ধারণা, টানা পঞ্চম বৈঠকের মতো এবারও সুদের হার ৩ দশমিক ৫০ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশের মধ্যে অপরিবর্তিত রাখা হবে।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি বার্ষিক হিসাবে কমে ৩ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এলেও তা এখনো ফেডের দীর্ঘমেয়াদি ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক বেশি। পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে ফেড এ লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি।
গত সপ্তাহ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। জবাবে তেহরান এ অঞ্চলে ওয়াশিংটনের মিত্র দেশগুলোর ওপর হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরের তেল পরিবহন পথ অবরোধের হুমকি দিয়েছে।
এ সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম আবারও বেড়েছে। মে মাসের শেষের পর এই প্রথম আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের বেঞ্চমার্ক ফিউচার্সের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে।
ফেডের গভর্নর ক্রিস্টোফার ওয়ালার গত সপ্তাহে বলেন, ‘২০২১ থেকে ২০২২ সালের মতো মূল্যস্ফীতির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ফেডকে মুদ্রানীতি আরও কঠোর করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু কঠোর দৃষ্টিতে মূল্যস্ফীতির দিকে তাকিয়ে থেকে সেটি নিজে থেকেই কমে যাবে— এমনটা ভাবার সুযোগ নেই।’
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ওয়ার্শ ফেডের নীতিগত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আগাম দিকনির্দেশনা কমিয়ে আনা বা পুরোপুরি বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ পদক্ষেপ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
কিছু বিশ্লেষকের মতে, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অস্পষ্টতা বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ায়। ফেডের দায়িত্ব নেওয়ার পর দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যে ওয়ার্শ মূল্যস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়ে তার ‘অটল অঙ্গীকার’ ব্যক্ত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধিতে ওঠানামা থাকলেও বেকারত্বের হার স্থির রয়েছে। ফলে নীতিনির্ধারকদের প্রধান মনোযোগ এখন মূল্যস্ফীতির দিকে।
বিশ্লেষকদের মতে, জুনে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও সামনে আবার বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবু এবারের বৈঠকে সুদের হার বাড়ানো হবে বলে তারা মনে করেন না। তবে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে কমিটির ভেতরে ভিন্নমত দেখা যেতে পারে।
কেপিএমজির প্রধান অর্থনীতিবিদ ডায়ান সোয়ঙ্ক এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের নতুন চেয়ারম্যান এসেছেন। কিন্তু পুরোনো নীতিনির্ধারকেরা এখন উদ্বিগ্ন, কারণ বছরের শুরু থেকে অর্থনীতির পরিস্থিতি বদলে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের উল্লম্ফনের ফলে চাহিদা বেড়ে যাওয়া ও ট্রাম্পের শুল্কনীতির ধারাবাহিক প্রভাব—সব মিলিয়ে মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।—বাসস





