বৈঠকের পর রুবিও বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। তবে সেগুলো ব্যবস্থাপনা করা এবং যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়, তা নিশ্চিত করাই তাদের কাজ। সাংবাদিকদের রুবিও বলেন, ‘সেপ্টেম্বরের সফরকে সামনে রেখে এখন আমাদের কাজ হলো সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করা, যাতে একটি অত্যন্ত ইতিবাচক সফরের ভিত্তি তৈরি করা যায়। এ নিয়ে আমরা অনেক কথা বলেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বড় ধরনের মতপার্থক্যের ক্ষেত্র আছে। উভয় পক্ষই তা স্বীকার করবে। সেগুলো নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। আমি মনে করি, নিকট ভবিষ্যতে এই মতপার্থক্যগুলো থেকেই যাবে।’ রুবিও বলেন, ‘আমরা স্বাভাবিকভাবেই সব সময় আমাদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করব। তারাও তাদের সংজ্ঞায়িত স্বার্থ রক্ষার কাজটি করবে বলে আশা করছি। তবে সম্ভাব্য সহযোগিতার কিছু ক্ষেত্রও রয়েছে বলে আমি মনে করি।’
বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে কথা বলেননি ওয়াং ই। রুবিওর সঙ্গে আলোচনা নিয়ে চীনও এখনো কোনো বিবৃতি দেয়নি।
প্রায় ৯০ মিনিট ধরে চলা এই বৈঠক এমন সময়ে হলো, যখন বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে একটি নাজুক সমঝোতা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিযোগ এই সমঝোতা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে। বেইজিং অবশ্য এই অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ বানোয়াট’ বলে অভিহিত করেছে। রুবিও জানান, ওয়াংয়ের সঙ্গে নির্বাচনে হস্তক্ষেপের এই অভিযোগ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
গত অক্টোবরে ট্রাম্প ও শির মধ্যে একটি অস্থায়ী বাণিজ্য চুক্তি হয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক তুলনামূলক স্থিতিশীল হয়েছে। গত মে মাসে বেইজিংয়ে তারা বৈঠক করেন। চীন জানিয়েছে, শি জিনপিং এবারের হেমন্তে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় সফরে যাবেন।
রুবিও বলেন, ‘বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বিশ্বে আমাদের দুই দেশের প্রভাব বিবেচনায়, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সম্পর্ক না থাকাটা সত্যিই বেপরোয়া ও দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ হবে।’
বৈঠকের আগে ফিলিপাইনের একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক নিবন্ধে দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের আচরণের সমালোচনা করেন রুবিও। তিনি বলেন, এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা ‘নতুন ও চাপ প্রয়োগমূলক হুমকির’ মুখে পড়েছে।
সোমবার দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের কোস্টগার্ড ও ফিলিপাইনের নৌসেনার মধ্যে সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে রুবিও বলেন, এই উত্তেজনা কারও জন্যই লাভজনক নয়। প্রতিটি বৈঠকে ওয়াশিংটন এই কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী তারা ম্যানিলার পাশে দাঁড়াতে বাধ্য। রুবিও বলেন, ‘আমরা আমাদের চুক্তিভিত্তিক দায়বদ্ধতা পালন করতে চাই। আমি মনে করি, আমরা এত দিন তা করেছি এবং করে যাব।’





