নতুন শুল্কের আওতায় পড়েছে ওয়াইন, হকি স্টিকের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য থেকে শুরু করে সিমেন্টের মতো শিল্প পণ্যও। তবে জ্বালানি, পটাশ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও মাছসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পণ্যকে এই শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, আগামী সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা ‘জোরদার’ করতে প্রস্তুত কানাডা।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই শুল্ক কার্যকর হবে। উত্তর আমেরিকার প্রতিবেশী এই দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা এর মধ্য দিয়ে চরম আকার নিয়েছে। কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মধ্যে বিদ্যমান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ‘ইউএসএমসিএ’-এর আওতাভুক্ত হোক বা না হোক—সব পণ্যের ওপর এই নতুন শুল্ক প্রযোজ্য হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক বিবৃতিতে কার্নি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইউএসএমসিএ চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন করে যে ধারাবাহিক একতরফা বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নিচ্ছে, এটি তারই সর্বশেষ সংযোজন।’ তিনি ‘কানাডার সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকির’ কথাও উল্লেখ করেন, যা কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম রাজ্য বানানোর ট্রাম্পের সাম্প্রতিক দাবিরই ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে।
সোমবারের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এল যখন দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি বাণিজ্য বাধা আগে থেকেই বিদ্যমান। যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে কানাডার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার ওপর ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করে রেখেছে। কানাডার কাঠের ওপর ৩৫ শতাংশ এবং গাড়ির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক রয়েছে। জবাবে কানাডাও মার্কিন ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও যানবাহনের ওপর ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করে রেখেছে।
ট্রাম্প সম্প্রতি কানাডার দাবানলের ধোঁয়া মার্কিন শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ার অজুহাতে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। তবে সোমবার সই করা নির্বাহী আদেশে দাবানলের কোনো উল্লেখ নেই। এতে গাড়ি, দুগ্ধজাত পণ্য ও মদ সংক্রান্ত পুরোনো বিরোধের কথা তুলে ধরা হয়েছে, যা দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনায় অচলাবস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
গাড়ির ক্ষেত্রে ট্রাম্পের অভিযোগ, ইউএসএমসিএ চুক্তির বাইরের মার্কিন যানবাহন ও যন্ত্রাংশের ওপর কানাডা কর আরোপ করছে, যা ‘অযৌক্তিক’। দুগ্ধপণ্যের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র কানাডার সরবরাহ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির সমালোচনা করে আসছে, যেখানে নির্দিষ্ট সীমার বেশি আমদানি করলে ৩০০ শতাংশের বেশি শুল্ক দিতে হয়। এ ছাড়া বেশির ভাগ কানাডীয় প্রদেশ কর্তৃক মার্কিন মদ বর্জনের সিদ্ধান্তও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কানাডার চেম্বার অব কমার্সের প্রধান ক্যান্ডেস লেইং এই সিদ্ধান্তকে ‘দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি ৩০ দিন মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আলোচনার মাধ্যমে ‘অর্থপূর্ণ অগ্রগতি’ অর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন। ডিস্টিলড স্পিরিটস কাউন্সিল অব দ্য ইউনাইটেড স্টেটসের প্রধান ক্রিস সোঙ্গার বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত ‘আরও বড় প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের ঝুঁকি’ তৈরি করেছে।





