বেলুচিস্তান ইস্যুতে নতুন সংকট; হুমকিতে চীনের বিনিয়োগ

বেলুচিস্তানে ম্যাপ
বেলুচিস্তানে ম্যাপ | ছবি: সংগৃহীত
0

প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর পাকিস্তানের বিস্তীর্ণ ভূখণ্ড বেলুচিস্তান প্রদেশ দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে অস্থিতিশীল ও বিপজ্জনক অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। পাকিস্তান থেকে স্বাধীন হওয়ার খবরে ঝুঁকিতে চীনের ৬ হাজার কোটি ডলারের প্রকল্প। এছাড়া, বিরল খনিজ নিয়ে চীনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকে পাকিস্তান সরকারের দেয়া প্রতিশ্রুতিও এখন হুমকির মুখে। যদিও, বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বেলুচিস্তান পাকিস্তানের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

পাকিস্তানের মোট আয়তনের প্রায় ৪৪ শতাংশ জুড়ে বেলুচিস্তান প্রদেশ। যেখানে বসবাস প্রায় দেড় কোটি বাসিন্দার। বিশাল প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হওয়ার পরও এটি পাকিস্তানের সবচেয়ে দরিদ্র প্রদেশ। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে অনগ্রসর। অথচ বেলুচিস্তানের তেল, গ্যাস, কয়লা, স্বর্ণ, তামা থেকে বিপুল রাজস্ব অর্জন করে পাকিস্তান সরকার।

প্রাকৃতিক সম্পদের একটি অংশ ঘনিষ্ঠ মিত্র চীন ও যুক্তরাষ্ট্রকে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে পাকিস্তান। এমন অবস্থায় বেলুচিস্তানের স্বাধীনতার ঘোষণায় ঝুঁকির মুখে চীনের ৬ হাজার কোটি ডলারের অর্থনৈতিক করিডর প্রকল্প। যা মহাসড়ক, রেলপথ ও পাইপলাইনের মাধ্যমে বেলুচিস্তান প্রদেশের গভীর সমুদ্রবন্দরকে চীনের জিনজিয়াং অঞ্চলের সঙ্গে সংযুক্ত করবে। যা প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে করিডরের সবচেয়ে কৌশলগত পয়েন্ট বেলুচিস্তানের গাদার সমুদ্রবন্দর। এখন প্রদেশটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সার্বভৌম রাষ্ট্রে পরিণত হলে বিপাকে পড়বে পাকিস্তান সরকার। যদিও চুক্তি অনুযায়ী এই বন্দর পরিচালনা করবে চীন। তবে প্রশ্ন থেকে যায় একটি স্বাধীন বেলুচিস্তান চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলো মেনে চলবে কি না।

আরও পড়ুন:

এদিকে, পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় তামা ও স্বর্ণের খনি বেলুচিস্তানের সাইন্দাক চীনকে ইজারা দেয়া হয়েছে। যার মেয়াদ ২০২২ সালে বাড়ানো হয় ১৫ বছরের জন্য। প্রদেশটিতে সাম্প্রতিক অস্থিরতায় বাধার মুখে পড়ে খনির অত্যাবশ্যকীয় পণ্য পরিবহন। এই প্রকল্প থেকে উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি করে গেল বছর পাকিস্তান আয় করে প্রায় ৭৫ কোটি ডলার। তবে নিরাপত্তার শঙ্কায় এখন বন্ধের মুখে এ প্রকল্প।

অন্যদিকে গেল বছর সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানের খনিজ সম্পদ উত্তোলনে বিনিয়োগের ৫০ কোটি ডলারের একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউজে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ব্রিফকেসে করে চকচকে কিছু খনিজ সম্পদ দেখিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। এ সময় পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। এটি ছিল মার্কিন বিনিয়োগে নিজেদের খনিজ সম্পদের দুয়ার খুলে দেয়ার প্রচেষ্টার অংশ।

তবে বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি দাবি করেন, পাকিস্তান ও বেলুচিস্তানের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো প্রোপাগান্ডার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে তরুণ সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

পাকিস্তানের সবচেয়ে সমৃদ্ধ খনিজ ভান্ডারগুলো মূলত বেলুচিস্তানে। এখন চীন ও যুক্তরাষ্ট্রকে দেয়া প্রতিশ্রুতি কতটুকু রক্ষা পাবে সেটি বড় প্রশ্ন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেলুচিস্তানের অস্থিরতার মূলে রয়েছে সম্পদের মালিকানা, রাজনৈতিক বঞ্চনা ও সামরিকীকরণের মতো দীর্ঘদিনের ক্ষোভ।

এফএস