বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ হারে বেড়েছে ইউরোপের তাপমাত্রা। এরইমধ্যে ইউরোপকে দ্রুত উষ্ণায়নশীল মহাদেশ হিসেবে বর্ণনা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক কার্যালয়। তাদের তথ্য মতে, গেল ৪ বছরে এই অঞ্চলে তাপপ্রবাহে প্রাণ হারিয়েছে ২ লাখের বেশি মানুষ। গেল দুই দশকে তাপজনিত কারণে ইউরোপে মৃত্যুহার বেড়েছে ৩০ শতাংশ।
গ্রীষ্মের দাবদাহে নাকাল ইউরোপের যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি, গ্রিস, জার্মানিসহ বেশকিছু দেশ। এই প্রাণঘাতী উচ্চ তাপমাত্রা স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবাসহ জরুরি পরিষেবাগুলোর ওপর আকস্মিক চাপ সৃষ্টি করেছে। তাপমাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই আগাম সতর্কতা, শহরগুলোকে শীতল রাখা, পর্যাপ্ত পানি ও ছায়ার ব্যবস্থা করা, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়তা এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে প্রস্তুত রাখতে ব্যক্তির পাশাপাশি সরকারকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
তাপপ্রবাহ ও দাবানল নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও স্বাস্থ্য কর্মপরিকল্পনার বেশকিছু নির্দেশনাও তৈরি করেছে সংস্থাটি। গরম আবহাওয়ায় জনস্বাস্থ্যমূলক বার্তাগুলো ডিজিটাল, প্রচলিত এবং সামাজিক মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্গম জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
এছাড়া, উচ্চ তাপমাত্রা মোকাবিলায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশের হাসপাতালগুলোকে ঢেলে সাজানোর নির্দেশনা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক কার্যালয়। জরুরি অবস্থায় স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো সচলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, এবং পানির সুব্যবস্থা রাখা।
এদিকে, গ্রীষ্ম মৌসুমে নেদারল্যান্ডসের নদীগুলো শুকিয়ে দেখা দিয়েছে তীব্র পানির সংকট। নদীর পানির স্তর একেবারে কমে যাওয়ায় আটকে আছে হাউজবোটগুলো। নেদারল্যান্ডসে বছরের এই সময়ের স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি তাপমাত্রা বিরাজ করছে।
লোয়ার নদী শুকিয়ে যাওয়ায় ফ্রান্সের মূল ভূখণ্ডের বেশিরভাগ অংশে দেখা দিয়েছে খরা। ফ্রান্সের দীর্ঘতম এই জলপথ এখন প্রায় বালুকাময়। এমন অবস্থায়, দেশটিতে পানি ব্যবহারে আরোপ করা হয়েছে বিধিনিষেধ।
আগাম খরা মোকাবিলায় ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী হাঙ্গেরির হোরতাবাগি জলাভূমিতে পানি সেচের ব্যবস্থা করেছে কর্তৃপক্ষ। সমভূমি ও জলাভূমি নিয়ে গঠিত পূর্ব হাঙ্গেরির উদ্যানটি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় স্থান। কয়েক হাজার পরিযায়ী পাখির আবাসস্থল এই জলাভূমি।





