বিশেষ সম্মেলনে নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর দেয়া বক্তব্যে বার্নহাম বলেন, তিনি ক্ষমতার জন্য প্রস্তুত এবং ‘সর্বত্র ভুলে যাওয়া জায়গাগুলোতে’ থাকা মানুষদের আশা জোগানোর জন্য কাজ করবেন।
লেবার আইনপ্রণেতা ও দলীয় কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বার্নহাম বলেন, ‘আমরা ঐক্যবদ্ধ এবং সেই ঐক্য থেকে আসা শক্তিকে আমরা সেই মানুষ ও জায়গাগুলোর কল্যাণে কাজে লাগাব, যারা রাজনীতিতে আবারও আশা খুঁজে পাওয়ার জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করছেন।’
মঞ্চে ওঠার সময় করতালি ও উল্লাসধ্বনির মধ্য দিয়ে বার্নহামকে স্বাগত জানান উপস্থিতরা। তিনি বলেন, ‘কী চমৎকার মুহূর্ত। আপনারা আমাকে যে সমর্থন দিয়েছেন, তার জন্য ধন্যবাদ।’
তিনি রসিকতা করে বলেন, ক্যাথরিন ওয়েস্টকে আলাদা করে ধন্যবাদ দেয়ার দরকার নেই, কারণ ‘তিনিও আমাকে সমর্থন দিয়েছেন’। মে মাসের নির্বাচনি পরাজয়ের পর কিয়ার স্টারমারের বিষয়ে আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন এই এমপি।
বার্নহাম জানান, সব লেবার আইনপ্রণেতাই ‘সর্বত্র ভুলে যাওয়া জায়গাগুলোর পক্ষ থেকে ম্যাকারফিল্ডের মানুষের ডাক শুনেছেন’। এই ডাক হলো ‘যে লেবারকে তারা একসময় চিনতেন, সেই লেবারের ফিরে আসার জন্য’। তিনি বলেন, ‘আমরা এই ডাকে সাড়া দেব।’
আরও পড়ুন:
স্টারমারের প্রতি শ্রদ্ধা
নিজের পূর্বসূরি কিয়ার স্টারমারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বার্নহাম বলেন, স্টারমারের নেতৃত্বেই দলটি সবচেয়ে বড় পরাজয় থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে সবচেয়ে বড় জয় অর্জন করেছে এবং মানুষের জীবন বদলে দেয়ার মতো অবস্থানে পৌঁছেছে।
তিনি তার পূর্বসূরির বেশ কয়েকটি অর্জনের কথা উল্লেখ করেন। এর মধ্যে রয়েছে এনএইচএসের অপেক্ষমাণ তালিকা কমানো এবং বিশ্বমঞ্চে ব্রিটেনের সুনাম পুনরুদ্ধার। দেশ ও দলের প্রতি স্টারমারের সেবার জন্য বার্নহাম তাকে ধন্যবাদ জানান।
হিলসবোরো আইন পাস প্রসঙ্গে বার্নহাম বলেন, ১০ বছর আগে স্টারমারের সঙ্গে বসে তিনি এই আইনের দ্বিতীয় খসড়া তৈরি করেছিলেন। মঙ্গলবার এই বিলটি চূড়ান্তভাবে পাস হওয়ার সময় সংসদে থাকাটা ‘আমার কাছে জীবনের চক্র পূর্ণ হওয়ার মতো মনে হয়েছিল’ বলে জানান তিনি।
বার্নহাম বলেন, তার এই পথচলা প্রকৃতপক্ষে শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালে লিভারপুলের অ্যানফিল্ডে। সেখানে তিনি এই সত্যের মুখোমুখি হন যে, ‘এই দেশ শ্রমিক শ্রেণির জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করে না, যেমনটি আমার নিজের শহরের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।’
আরও পড়ুন:
তিনি বলেন, ‘এই দেশ তাদের প্রতি মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।’ শেফিল্ড, স্কানথর্প, পোর্ট ট্যালবট, টিসাইডের ইস্পাত ও লোহা কারখানা, দক্ষিণ ওয়েলসের কয়লাক্ষেত্র, মধ্য স্কটল্যান্ড, ল্যাঙ্কাশায়ার, পেনিন্সের ওপারের কারখানা এবং টাইন ও ক্লাইডের জাহাজ নির্মাণ কারখানাগুলোকে যারা গড়ে তুলেছিল, সেই মানুষগুলোই ‘লেবারকে তৈরি করেছেন। কিন্তু আমাদের নিজেদের জিজ্ঞাসা করতে হবে, আমরা কি তাদের জন্য যথেষ্ট ভালো ছিলাম?’
পাঁচ অঙ্গীকার
বার্নহাম বলেন, ‘এই প্রজন্মের রাজনীতিকরা সাধারণ মানুষের জন্য কার্যকরভাবে কাজ করে না, এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে ব্যর্থ হয়েছেন।’ তিনি দলকে আরও ভালো করে তুলতে পাঁচটি অঙ্গীকার তুলে ধরেন।
প্রথম অঙ্গীকার হিসেবে তিনি ‘এক লেবার দল’ গড়ে তোলার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় ‘নিরলসভাবে’ কাজ করার কথা বলেন। সব মতাদর্শকে সম্মান জানিয়ে ঐক্য গড়ে তুলতে চান তিনি। তবে তিনি এখনো ঠিক করেননি তার শীর্ষ দলে কারা থাকবেন। তার ভাষ্য, এই দল দলের সব অংশের কণ্ঠস্বরকে প্রতিফলিত করবে।
তিনি বলেন, প্রয়োজনে অন্য দলগুলোর সঙ্গে কাজ করবেন, তবে তার নেতৃত্ব হবে ‘নিঃসন্দেহে লেবার ধারার’। তার দল ‘সাহসী, আত্মবিশ্বাসী এবং প্রকৃতপক্ষে আমরা যেমন, ঠিক সেভাবেই’ জয়ী হবে।
আরও পড়ুন:
তার দ্বিতীয় লক্ষ্য হলো ‘নতুন এক রাজনীতি গড়ে তোলা’। তিনি বলেন, ব্রিটেনের মানুষ রাজনীতির প্রতি বিরক্ত হয়ে পড়েছেন এবং এতে তারা ‘মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন’। তিনি স্বীকার করেন, ‘আমরা যথেষ্ট ভালো ছিলাম না।’ ম্যাকারফিল্ডের মানুষ দলকে আরেকটি সুযোগ দিয়েছেন। তবে এটি ‘বদলে যাওয়ার শেষ সুযোগ, এবং আমাদের একসঙ্গে এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, দলটিকে পয়েন্ট স্কোরিংয়ের বদলে সমস্যা সমাধানে মনোযোগ দিতে হবে এবং সামাজিক পরিচর্যাসহ রাজনীতি যেসব বড় বিষয়কে অবহেলা করেছে, সেগুলো ঠিক করতে হবে।
তার চতুর্থ অঙ্গীকার হলো, তিনি হবেন ‘উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিমের নেতা; স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের নেতা।’ তিনি বলেন, উত্তর ইংল্যান্ড তাকে অনেক কিছু দিয়েছে এবং এটির পক্ষে সবচেয়ে শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হওয়ার চেষ্টা করেছেন। এখন তিনি ‘সব জায়গার জন্য’ একই কাজ করবেন।
তিনি বলেন, ‘বাচ্চাদের জীবনে উন্নতি করতে গৌরবময় জায়গাগুলো ছেড়ে যেতে বাধ্য হওয়া উচিত নয়।’
আরও পড়ুন:
আশা ফেরানোর অঙ্গীকার
বার্নহাম স্বীকার করেন, তিনি সব কিছু ঠিক করতে পারেননি। যেখানে তিনি ঘাটতিতে ছিলেন, সেখানে তিনি ‘দুঃখিত’। তবে তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় আমার সেরাটা দিয়েছি।’
তিনি জানান, চলার পথে তিনি শুনেছেন ও শিখেছেন এবং ‘আশা করি এর ফলে আমি আরও ভালো হয়ে উঠেছি।’ এরপরই তিনি বলেন, ‘আমি জানি আমি কী বিশ্বাস করি এবং কী করতে চাই—আমার একটি পরিকল্পনা আছে।’
লেবার পার্টির নতুন নেতা হিসেবে ‘আশা ফিরিয়ে আনার’ প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বক্তব্য শেষ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের সবার ওপর বিশ্বাস রাখি এবং আমি আত্মবিশ্বাসী যে আমরা এটি করতে পারব।’ বক্তব্য শেষে তিনি দাঁড়ানো করতালিতে সিক্ত হন।
সোমবার স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হয়ে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হবেন বার্নহাম। তার মন্ত্রিসভা ও সরকার পরিচালনার পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে দলের নেতা-কর্মীরা মুখিয়ে আছেন।





