রাজ্যসভায় সাংসদ পদ ছাড়লেন কোয়েল মল্লিক, তবে কি বিজেপিতে?

দিল্লিতে ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে সাক্ষাৎ কোয়েল মল্লিকের
দিল্লিতে ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে সাক্ষাৎ কোয়েল মল্লিকের | ছবি : সংগৃহীত
0

অবশেষে সত্যি হলো রাজনৈতিক মহলের দীর্ঘদিনের জল্পনা। রাজ্যসভার সংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন জনপ্রিয় টলিউড অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। আজ (বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই) দিল্লিতে গিয়ে উপরাষ্ট্রপতি তথা রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি. পি. রাধাকৃষ্ণণের কাছে সশরীরে উপস্থিত হয়ে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দেন তিনি। খবর আনন্দবাজার

সাংসদ পদ ছাড়ার পরপরই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে দেখা করেন কোয়েল। আর এই সাক্ষাতের পরেই জল্পনা তুঙ্গে, সুখেন্দুশেখর রায়দের মতো কোয়েল মল্লিকও কি এবার বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন?

সূত্রের খবর, প্রথমে রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে ই-মেইল করে ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছিলেন কোয়েল। কিন্তু নিয়মানুসারে, রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ করতে হলে সংশ্লিষ্ট সাংসদকে সশরীরে হাজির হতে হয়। সেই নিয়ম মেনে আজ সকালে রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের হাতে নিজের পদত্যাগপত্র তুলে দেন রুক্মিণী মল্লিক (যিনি চলচ্চিত্র অঙ্গনে কোয়েল নামেই সমধিক পরিচিত)। ইস্তফা পর্ব শেষ করেই তিনি সোজা চলে যান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সাথে দেখা করতে।

চলতি মাসের ৯ জুলাই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন রাজ্যসভার তিন সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক। দলবদলের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাদের খালি হওয়া তিনটি আসনে পুনরায় প্রার্থী করে রাজ্যসভায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় বিজেপি। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া সেই তিন সাংসদের হাতে আগামীকাল (শুক্রবার) রাজ্যসভার নতুন শংসাপত্র তুলে দেয়া হবে।

পদত্যাগপত্র |ছবি : সংগৃহীত

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের ধারণা, কোয়েল মল্লিকও হয়তো সুখেন্দুদের দেখানো পথেই হাঁটছেন। তৃণমূলের টিকিটে আসা পদটি ছেড়ে দিয়ে বিজেপির সমর্থনে তিনি আবারও রাজ্যসভায় ফিরে আসতে পারেন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তৃণমূল কংগ্রেসের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে রাজ্যসভার সাংসদ হয়েছিলেন কোয়েল। তবে সাংসদ হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত সংসদের কোনো অধিবেশনে যোগ দেয়া হয়নি তার। আগামী সোমবার থেকে সংসদের অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা ছিল। সাংসদ হিসেবে এটিই হতে পারত কোয়েলের প্রথম সংসদীয় অধিবেশন। কিন্তু অধিবেশন শুরুর মাত্র চার দিন আগেই নাটকীয়ভাবে পদত্যাগ করলেন তিনি।

আরও পড়ুন:

গত জুন মাসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের দিল্লির বাসভবনেই দফায় দফায় বৈঠক করেছিলেন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদেরা, যার নেতৃত্বে ছিলেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। এর পরেই তৃণমূলের ২০ জন লোকসভা সাংসদ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া গঠনের ঘোষণা দেন। এই পুরো রাজনৈতিক ভাঙাগড়ার পেছনে সমন্বয়কের ভূমিকায় ছিলেন ভূপেন্দ্র যাদব। ফলে তার সঙ্গে কোয়েলের আজকের সাক্ষাৎকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

উল্লেখ্য, রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীর সঙ্গে কোয়েল মল্লিককেও রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। মনোনয়নের ঠিক আগেই মল্লিকবাড়িতে গিয়ে কোয়েলের সঙ্গে দেখা করেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

গত এপ্রিল মাসে সপরিবারে দিল্লিতে গিয়ে রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে শপথ নেয়ার পর কোয়েল গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘এটা তো একটা মহৎ দায়িত্ব, দেশের সেবা, মানুষের সেবা করার সুযোগ। আমি নিজেকে ভীষণ ভাগ্যবতী মনে করি যে, আমার নাম মনোনীত হয়েছে।’ তবে মাত্র চার মাসের মাথায় সেই ‘মহৎ দায়িত্ব’ থেকে কোয়েলের এভাবে সরে দাঁড়ানো এবং বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন কোনো সমীকরণের জন্ম দেয় কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

এনএইচ