দাবানলের ধোঁয়ায় ঢেকে আছে কানাডার উত্তর-পশ্চিম প্রদেশ অন্টারিও। কমলা রঙ ধারণ করেছে টরন্টোর আকাশ । দিনের আলোতেও ঝাপসা চারপাশ। গোটা অন্টারিও প্রদেশ ঢেকে আছে ঘন ধোঁয়ার চাদরে। দাবানলের এই ধোঁয়া প্রতিবেশি দেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকেও দেখা যাচ্ছে। যা এরইমধ্যে টরন্টো শহরকে পরিণত করেছে বিশ্বের অন্যতম দূষিত শহরে।
কানাডার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এয়ার কোয়ালিটি হেলথ ইনডেক্সের তথ্য মতে, দেশটিতে বায়ু দূষণের মাত্রা ১০-এর বেশি। যা উচ্চ ঝুঁকি নির্দেশ করে। এমন পরিস্থিতিতে বেশ কয়েকটি মহাসড়কে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে গাড়ি চলাচল। বাতাসের মানের অবনতি হওয়ায় বাসিন্দাদের ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এছাড়া, নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বহু বাসিন্দাকে।
শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কানাডার স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, দূষিত বায়ুর প্রভাবে চোখ, নাক ও গলায় জ্বালাপোড়া, মাথাব্যথাসহ বিভিন্ন রোগবালাই বাড়তে পারে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাসিন্দাদের বাইরে না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শহর কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি উত্তর কানাডার দাবানলের ধোঁয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া, দেশজুড়ে স্বাভাবিকের চেয়ে তাপমাত্রা উষ্ণ থাকায় দাবানল আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড্যান ওয়েস্টারভেল্ট বলেন, ‘কানাডার বায়ুর গুণমান সূচক অস্বাস্থ্যকর মাত্রায় রয়েছে। যা সব বয়সী মানুষের জন্যই অস্বাস্থ্যকর। পূর্বাভাসে দেখা যাচ্ছে দুই একদিনের মধ্যে তা আরও কয়েক ধাপ খারাপ হয়ে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে পৌঁছাবে। যা বিপজ্জনক পর্যায়েও চলে যেতে পারে।’
কানাডা সরকারের তথ্যমতে, দেশটির প্রায় ৮৩৫টি স্থানে সক্রিয় রয়েছে দাবানল। এর মধ্যে ১১২টি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। দাবানলে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে কানাডার ৪৭ লাখ একরের বেশি অঞ্চল।





