প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ রাজনীতিবিদরা দীর্ঘ দিন ধরেই বলে আসছেন, মার্কিন নাগরিক বা সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বিচার করার কোনো এখতিয়ার আইসিসির নেই। সোমবার ট্রাম্প প্রশাসন জানায়, এই আদালত যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। এরপর আইসিসি কর্মকর্তাদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাসহ অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধির ঘোষণা দেয়া হয়, যা ইউরোপীয় মিত্রদের সমালোচনার মুখে পড়েছে।
‘ডেমোক্রেসি ফর দ্য আরব ওয়ার্ল্ড নাউ’ এবং ‘ট্যাক্সপেয়ার অ্যালায়েন্স অ্যাগেইনস্ট জেনোসাইড’ এই মামলার মাধ্যমে ট্রাম্পের ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাহী আদেশটি বাতিলের দাবি জানিয়েছে। ওই আদেশের অধীনে আইসিসির বিচারক ও প্রসিকিউটরদের পাশাপাশি ফিলিস্তিনি মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জরিমান ও কারাদণ্ডের ভয়ে ফিলিস্তিন বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেস্কা অ্যালবানিজসহ অন্যদের সঙ্গে মানবাধিকার সংক্রান্ত কাজে সমন্বয় করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছে বাদী পক্ষ।
মানবাধিকার সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ওমর শাকির বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে কেবল মানবাধিকার কর্মীদের শাস্তি দিতে নয়, বরং লাখো মার্কিন নাগরিকের রাজনৈতিক মতপ্রকাশ নিয়ন্ত্রণে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এর আগে ২০২০ সালেও ট্রাম্প আইসিসির বিরুদ্ধে এমন আদেশ দিয়েছিলেন, যা পরে আদালত আটকে দেয় এবং প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ২০২১ সালে তা বাতিল করেন।
গত বছর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর আইসিসি কর্মকর্তাদের ওপর নতুন করে চটেছেন ট্রাম্প। তবে আইসিসি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে কোনো তদন্তের পদক্ষেপ নেয়নি।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আইসিসির প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে। ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র আনোয়ার এল আনৌনি বলেন, আদালতের কর্মকর্তা বা তাদের সঙ্গে সহযোগিতাকারীদের ওপর আক্রমণ বা হুমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এক বার্তায় জানিয়েছে, স্বাধীন আদালতকে বাধা ছাড়াই কাজ করতে দিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর অবস্থানে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটি।





