অনলাইনে শিশুদের নিরাপত্তা বিষয়ক এক প্রতিবেদন প্রকাশের পর উরসুলা ভন ডার লিয়েন সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা স্পষ্ট যে আমাদের প্ল্যাটফর্মগুলোতে বয়স অনুযায়ী বিধিনিষেধ প্রয়োজন।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ‘ক্ষতিকর অ্যালগরিদম’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘প্রশ্ন এটি নয় যে শিশুরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে পারছে কি না। প্রশ্ন হলো, কখন এবং কীভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আমাদের শিশুদের নাগাল পাচ্ছে।’
আগামী শরতের মধ্যে এ বিষয়ে একটি খসড়া আইন তৈরির প্রতিশ্রুতি দিলেও সর্বনিম্ন বয়স কত হবে তা এখনো স্পষ্ট করেননি তিনি। তবে বিশেষজ্ঞ প্যানেলের বয়স অনুযায়ী ধাপে ধাপে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুপারিশকে তিনি ‘যুক্তিযুক্ত’ বলে অভিহিত করেছেন। জার্মান মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ইয়োর্গ ফেগার্ট এবং ফরাসি মহামারি বিশেষজ্ঞ মারিয়া মেলচিওরের নেতৃত্বাধীন প্যানেলটি ১৩ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছাড়াও ভিডিও গেম ও এআই চ্যাটবটের মতো ফিচারের ওপর ইইউ-ব্যাপী বিধিনিষেধের আহ্বান জানিয়েছে।
ইতোমধ্যেই অন্তত ১০টি ইইউ দেশ শিশুদের জন্য এমন নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। ফ্রান্স ১৫ বছর এবং স্পেন ১৬ বছরের কম বয়সীদের ওপর বিধিনিষেধের অঙ্গীকার করেছে। গ্রিসে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য এই নিয়ম কার্যকর হবে। তবে এস্তোনিয়া এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করে বলছে, শিশুরা যেকোনোভাবে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার পথ খুঁজে নেবে, তাই প্ল্যাটফর্মগুলো নিয়ন্ত্রণ করার দিকেই নজর দেয়া উচিত।
অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, এক্স ও টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। উরসুলা ভন ডার লিয়েন ইন্টারনেটের গঠনগত নিরাপত্তার ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা শিশুদের কাছ থেকে নিজেদের সিটবেল্ট ডিজাইন করার আশা করি না। তেমনি বাবা-মায়েরাও বাড়িতে এয়ারব্যাগ ফিট করবেন না। সিস্টেমকেই নিরাপদ হতে হবে।’
ইউরোপীয় কমিশন ইতোমধ্যেই মেটা এবং টিকটকের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত শেষে জানিয়েছে, অ্যাপগুলোর ‘আসক্তিমূলক’ গঠন পরিবর্তন করতে হবে। বিশেষ করে ইনফিনিট স্ক্রল, ভিডিও অটো-প্লে এবং পুশ নোটিফিকেশনের মতো ফিচারগুলো শিশুদের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মেটা ও টিকটক অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।




 specialises in using seismological data to track nuclear tests-320x167.webp)
