ইয়েমেন সীমান্তে আবারও উত্তেজনা; আবহা বিমানবন্দরে হুথিদের আঘাত

বিমান হামলার পর সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ধোঁয়া উড়ছে
বিমান হামলার পর সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ধোঁয়া উড়ছে | ছবি: রয়টার্স
0

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের ভেতরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। সোমবার তাদের নিয়ন্ত্রিত একটি বিমানবন্দরে সৌদি আরব বোমাবর্ষণ করেছে এমন অভিযোগ তুলে এই হামলা চালায় গোষ্ঠীটি। এর মাধ্যমে সৌদি আরব ও ইরান-পন্থি এই গোষ্ঠীর মধ্যে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়লো। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের এক মুখপাত্র এক্সে (সাবেক টুইটার) জানিয়েছেন, ‘সন্ত্রাসী হুথি মিলিশিয়াদের’ ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সৌদির দক্ষিণাঞ্চলে বাধা দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। অন্যদিকে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, তারা সৌদির পাহাড়ি অঞ্চল আভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছেন। ইয়েমেন সীমান্তবর্তী এই এলাকাটি গ্রীষ্মের সময় সৌদি নাগরিকদের কাছে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে জনপ্রিয়।

২০২২ সালের মার্চ মাসে সৌদি জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার পর একটি অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। এরপর থেকে সৌদি আরবে হুথিদের পক্ষ থেকে এটিই প্রথম বড় ধরনের হামলা। সোমবারের এই সহিংসতা সৌদির দক্ষিণ সীমান্তে নতুন করে যুদ্ধের শঙ্কা তৈরি করেছে।

এর আগে সোমবার উত্তর ইয়েমেন নিয়ন্ত্রণকারী হুথিরা অভিযোগ করে, সৌদি আরব সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান হামলা চালিয়েছে। হুথিরা একে ‘স্পষ্ট আগ্রাসন’ অভিহিত করে পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে সানা বিমানবন্দরের ‘অবরোধ’ তুলে না নেয়া পর্যন্ত এয়ারলাইনসগুলোকে সৌদি আকাশসীমা এড়িয়ে চলার জন্য সতর্ক করে তারা।

তবে সানা বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছে রিয়াদ-পন্থি ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। ইয়েমেনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে একটি ইরানি বিমানকে অবতরণ থেকে ঠেকাতে তারা রানওয়েতে হামলা চালিয়েছে। পরবর্তী সময়ে জানা যায়, বিমানটি হুথি নিয়ন্ত্রিত হোদেইদাহ বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে।

অন্য এক মন্ত্রী জানিয়েছেন, হুথিরা সানা বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) একটি বিমান আটকে রেখেছে। তবে আইসিআরসির মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক মুখপাত্র হাশেম ওসেইরান রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তাদের সব কর্মী ও ক্রু নিরাপদ আছেন।

এক দশকের বেশি সময় ধরে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ ও ছায়াযুদ্ধ চলছে। ২০১৫ সালে হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হস্তক্ষেপ করার পর বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়। ২০২২ সালের পর থেকে যুদ্ধবিরতি মোটামুটি কার্যকর থাকলেও লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল ও ইরান কেন্দ্রিক উত্তজনা পরিস্থিতির আবারও অবনতি ঘটিয়েছে।



এএম