জার্মানিতে রেকর্ড ৪১ ডিগ্রি; বিপর্যস্ত রেল, বিদ্যুৎ ও দৈনন্দিন জীবন

তীব্র গরমে ফোয়ারার পানিতে শরীর ঠান্ডা করছে শিশুরা
তীব্র গরমে ফোয়ারার পানিতে শরীর ঠান্ডা করছে শিশুরা | ছবি: সংগৃহীত
0

ইউরোপজুড়ে চলা তীব্র দাবদাহ এবার পূর্বদিকে অগ্রসর হয়ে জার্মানি ও পোল্যান্ডকে গ্রাস করতে যাচ্ছে। এতে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট) ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদেরা। রেকর্ড ভাঙা এই তাপপ্রবাহে এ পর্যন্ত কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

জার্মানির জাতীয় আবহাওয়া বিভাগের মুখপাত্র জানিয়েছেন, গত শুক্রবার দেশটির সারব্রুকেন শহরের কাছে নতুন জাতীয় রেকর্ড ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা নথিভুক্ত করা হয়েছে। তবে এই তথ্যটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এর আগে চলতি জুন মাসে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং সুইজারল্যান্ডও তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙেছে। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে ফ্রান্সে, যেখানে শিশু ও বয়স্কসহ অনেকেই মারা গেছেন। চরম এই গরমে রেল চলাচল, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং উন্মুক্ত স্থানে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠান ব্যাহত হচ্ছে।

আবহাওয়া পূর্বাভাস সাইট ডোনারওয়েটারের আবহাওয়াবিদ কারস্টেন ব্র্যান্ডট বলেন, ‘সপ্তাহান্তে এই তাপপ্রবাহ চরম আকার ধারণ করবে। জার্মানির কিছু অংশে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের অনেক উপরে চলে যেতে পারে।’ আগামী রোববার ফ্রাঙ্কফুর্টে অনুষ্ঠেয় আয়রনম্যান ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ ট্রায়াথলনের সাইক্লিং ও দৌড়ের অংশগুলো গরমের কারণে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। সড়ক ফেটে যাওয়া এবং রেললাইন বেঁকে যাওয়ার আশঙ্কায় বহু গণপরিষেবা সংস্থা যান চলাচল কমিয়েছে। জার্মান জাতীয় রেল পরিচালনা সংস্থা ‘ডয়েচে বান’ গ্রাহকদের আগামী সপ্তাহের শুরু পর্যন্ত দূরপাল্লার ভ্রমণের টিকিট বিনামূল্যে বাতিল করার সুযোগ দিয়েছে।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গরমের কারণে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা বন্ধ রাখা হয়েছে, কৃষিকাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কিছু হাসপাতাল রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। রয়টার্স ক্লাইমেট মনিটরের তথ্য অনুযায়ী, এই তাপপ্রবাহে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। ‘ওমেগা ব্লক’ নামে পরিচিত একটি আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে এমনটি ঘটছে। এই ব্যবস্থায় কোনো একটি অঞ্চলের ওপর দীর্ঘ সময় ধরে গরম বাতাস আটকে থাকে, আর তার চারপাশে অপেক্ষাকৃত শীতল বাতাস বিরাজ করে। ফলে ইলেকট্রিক ফ্যানের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এশীয় এসি নির্মাতারা ইউরোপে বিক্রির রেকর্ড করেছে। কারণ উত্তর ইউরোপের বেশিরভাগ বাড়িঘর গরম আটকে রাখার মতো করেই তৈরি, ঠান্ডা রাখার মতো করে নয়।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, মাসের শেষে এই তাপপ্রবাহ মধ্য ইউরোপ ও বলকান অঞ্চলে সরে যাবে। বিজ্ঞানীদের মতে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন না হলে এমন তাপপ্রবাহ প্রায় অসম্ভব ছিল। দুই দশক আগের তুলনায় এই সপ্তাহের রাতের তাপমাত্রা ১০০ গুণ বেশি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই।

এএম