গত বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ০৪ মিনিটে যখন দেশটি ১৮২১ সালের কারাবোবো যুদ্ধের বার্ষিকী পালন করছিল, ঠিক তখনই এই কম্পন অনুভূত হয়। রাজধানী কারাকাস সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বিশেষ করে আলতামিরা জেলায় একটি ২২ তলা ভবন ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এক টেলিভিশন ভাষণে সব চিকিৎসক ও নার্সকে অবিলম্বে হাসপাতালে রিপোর্ট করার নির্দেশ দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত ৩২ জন নিহতের পাশাপাশি প্রায় ৭০০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) সতর্ক করেছে যে, ভেনেজুয়েলার অনেক ভবন কাঁচা ইট ও মাটি দিয়ে তৈরি হওয়ায় নিহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। সংস্থাটির গাণিতিক মডেলে আশঙ্কা করা হয়েছে যে, নিহতের সংখ্যা ১ হাজার থেকে ১০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ৩৯ শতাংশ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ভূমিকম্পকে এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, এটি ‘ভয়াবহ সংখ্যক’ প্রাণহানি ঘটিয়েছে।
ইউএসজিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্প দুটির উৎপত্তিস্থল ছিল কারাকাসের পশ্চিমে ইয়ারাকুই রাজ্যে। প্রথম কম্পনটি ছিল ৭ দশমিক ২ মাত্রার এবং এর এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় শক্তিশালী কম্পনটি আঘাত হানে। কারাকাস ছাড়াও কারাবোবো, মিরান্ডা ও লা গুয়াইরা রাজ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। কম্পনটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে পার্শ্ববর্তী কলম্বিয়া এবং ১ হাজার ৭০০ কিলোমিটার দূরে ব্রাজিলের আমাজন অঞ্চলেও তা অনুভূত হয়েছে।
ভূমিকম্পের ফলে কারাকাসের সিমোন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কয়েক দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আগামী কয়েক দিন শক্তিশালী আফটারশক বা পরবর্তী কম্পন হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। ভেনেজুয়েলা মূলত ক্যারিবিয়ান এবং দক্ষিণ আমেরিকান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এখানে বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি সব সময়ই থাকে। এর আগে ১৮১২ সালে এক ভূমিকম্পে দেশটিতে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই দুর্যোগে ভেনেজুয়েলার পাশে দাঁড়িয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘নতুন ও মহান বন্ধু’ ভেনেজুয়েলাকে সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত। তিনি এরই মধ্যে উদ্ধারকারী দল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া এল সালভাদর ৩০০ প্যারামেডিক ও ৫০ টন চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। ইকুয়েডর, পানামা, মেক্সিকো এবং ব্রাজিলও এই মানবিক সংকটে সংহতি প্রকাশ করেছে।





