ব্রেক্সিটের ১০ বছর: অধরাই রয়ে গেল উন্নত ব্রিটেনের স্বপ্ন

ব্রেক্সিট
ব্রেক্সিট | ছবি: সংগৃহীত
0

যে উন্নত ব্রিটেন গড়ার আকাঙ্ক্ষায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়েছিলো যুক্তরাজ্য, ১০ বছর পরে পরিসংখ্যান বলছে, সে স্বপ্ন আজও অধরাই থেকে গেছে। জিডিপি থেকে ব্যবসায়িক বিনিয়োগ- অনেক ক্ষেত্রেই ইইউর সদস্যরাষ্ট্রের চেয়ে পিছিয়ে ব্রিটেন। ডলারের বিপরীতে এখনও ব্রেক্সিট-পূর্ব অবস্থায় ফিরতে পারেনি পাউন্ডের দাম। আল জাজিরার প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে এসব তথ্য।

ব্রেক্সিটের ১০ অর্থাৎ যুক্তরাজ্যের ইউরোপ থেকে বের হওয়ার ১০ বছর। এক দশক পর এখন প্রশ্ন ওঠে ইইউ থেকে থেকে বের হওয়ার ভোটে এর পক্ষে থাকা ভোটার ও রাজনীতিকরা যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তার কতটুকু পূরণ হলো?

২০১৬ সালের ২৩ জুন ব্রেক্সিট ভোটের ফলাফলে দেখা যায়, ছোট শহর ও গ্রামীণ এলাকার মানুষ ছিলেন ব্রিটেন এক্সিটের পক্ষে। আর বড় শহরের বাসিন্দারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের থাকার পক্ষে রায় দেন। এছাড়া, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ইইউ থেকে ব্রিটেন বের হওয়ার বিপক্ষে থাকলেও ব্রেক্সিটের সমর্থক ছিলেন বরিস জনসন।

কিছু পরিসংখ্যান দিয়ে ব্রেক্সিট পরবর্তী যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি বিশ্লেষণ করেছে আল জাজিরা। যেখানে দেখা যাচ্ছে, গেল ১০ বছরে ব্রিটেনবাসীর জিডিপি ইইউ'র ২৭টি সদস্যরাষ্ট্রের চেয়ে পেছনে পড়েছে। এছাড়াও, অর্থনীতিবিদদের পর্যবেক্ষণ, ব্রেক্সিট পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্যে ব্যবসায়িক বিনিয়োগ কমেছে ১২-১৮ শতাংশ। অফিস ফর বাজেট রেসপন্সিবিলিটি'র হিসাবে, ব্রেক্সিটের কারণে যুক্তরাজ্যের সামগ্রিক উৎপাদন ক্ষমতা কমে গেছে প্রায় ৪ শতাংশ।

আল জাজিরার বিশ্লেষণ আরও বলছে, ব্রেক্সিটের কারণে ইউরোপের সাথে যুক্তরাজ্যের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসা-বাণিজ্য আরও ১৫ শতাংশ কমে যাওয়ার পথে। ব্রেক্সিট থেকে বের হয়ে যাওয়ায়, ইউরোপে পণ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে কাস্টম চেকিং, সার্টিফিকেট, পণ্য খালাসে দেরিসহ নানা জটিলতার শিকার ব্রিটেন। এইচএসবিসি গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট রিসার্চের তথ্য, সীমান্তে চেকিং- বাবদ ২০২৪ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের অতিরিক্ত খরচ ৪.৭ বিলিয়ন পাউন্ড। এ কারণে ব্রিটেনের ছোট কোম্পানিগুলো ইউরোপে পণ্য বিক্রি করাই পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে।

সেই ২০১৬ সালে ব্রেক্সিটের ফল ঘোষণার পর কয়েক ঘণ্টায় ডলারের বিপরীতে পাউন্ডের দাম কমে যায় ১০ শতাংশের বেশি। ১৯৮৫ সালের পর এটাই ছিলো এক দিনে কোনো মুদ্রার দাম পড়ে যাওয়ার সবচেয়ে বড় ধাক্কা। ১০ বছর পরে এসে ব্রেক্সিট-পূর্ব অবস্থায় ফিরতে পারেনি পাউন্ডের দাম।

ব্রেক্সিটপন্থীরা যুক্তরাজ্যে অভিবাসন কমানোর যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তাও সফল হয়নি। ২০২২-২০২৩ এ ইইউ থেকে আসা অভিবাসীর সংখ্যা কমলেও, যুক্তরাজ্যে মোট অভিবাসীর সংখ্যা কমেনি। ২০২৫ এ আইন কঠোরের পর অভিবাসী ঢল কিছুটা কমলেও তা ব্রেক্সিটের আগের সময়ের তুলনায় এখনও বেশি।

১০ বছর পরে জনমত জরিপেও পাল্টে গেছে আগের চিত্র। ২০২৬ সালের জুনে করা ইউগভের পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমানে যুক্তরাজ্যের ৫৭ শতাংশ মানুষ মনে করেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে দেওয়াটা একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। ইপসসের জরিপ, ব্রিটেনের ৫২ শতাংশ মানুষ মনে করেন যুক্তরাজ্যের এখন আবারও ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার জন্য আবেদন করা উচিৎ।

ইএ