ব্রেক্সিটের দশ বছর: বদলে যাওয়া ব্রিটিশ রাজনীতি, শেষ হয়নি বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রের একটি শহর
যুক্তরাষ্ট্রের একটি শহর | ছবি : সংগৃহীত
0

দশ বছর পূর্ণ বহুল আলোচিত ব্রেক্সিট ভোটের। ২০১৬ সালে এক গণভোটের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসে যুক্তরাজ্য। এর ফলে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে, যার প্রভাব এখনও অব্যাহত। মাত্র এক দশকে ছয়জন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতা ছাড়তে বা পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। যুক্তরাজ্যের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বেক্সিটের পক্ষে-বিপক্ষে রয়েছে নানা বিতর্ক।

গেলো এক দশকধরেই অস্থিতিশীল যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি। যার নেপথ্যে কখনও মুখ্য, কখনও পরোক্ষ ভূমিকা রেখেছে বেক্সিট ভোট। ২০১৬ সালের ২৩শে জুন ব্রিটেন ইইউ ত্যাগ করার পক্ষে ভোট দেয়। এরপর ৪৭ বছরের সদস্যপদ ছেড়ে ২০২০ সালের ৩১শে ডিসেম্বর বিশ্বের বৃহত্তম বাণিজ্য জোট থেকে বেরিয়ে যায় যুক্তরাজ্য।

এই গণভোটের পর থেকে ছয়জন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতা ছাড়তে বা পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। যার শুরু হয় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে।

ব্রেক্সিটের ফলে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদে ধীর প্রবৃদ্ধি, বাণিজ্য সংকোচন, বিনিয়োগ হ্রাস এবং শ্রমিকের ঘাটতির মতো নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ব্যাংক অব ইংল্যান্ড এবং স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা যায়, ব্রেক্সিটের কারণে সামগ্রিক জিডিপি ৬ থেকে ৮ শতাংশ কমেছে। বিনিয়োগ হ্রাস পেয়েছে ১২ থেকে ১৮ শতাংশ।

কিংস কলেজের অর্থনীতি ও জননীতি বিভাগের অধ্যাপক জোনাথন পোর্টেস বলেন, ‘অর্থনীতিবিদদের ভবিষ্যদ্বাণী সত্য হয়ে ব্রেক্সিট যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ব্রেক্সিট না হলে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি যতটা শক্তিশালী হতো, এখন তা স্পষ্টতই তার চেয়ে দুর্বল। ব্রেক্সিট নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। কিন্তু এটি নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, ব্রেক্সিটের ফলে আমরা কয়েক শতাংশ দরিদ্র হয়েছি। যদিও এটা কোনো মহাবিপর্যয় নয়। তবে আমাদের এটাও মনে রাখা উচিত যে, এসময় অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলোও উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সমস্যার সম্মুখীন হলেও ব্রেক্সিট আমাদেরকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করে দিয়েছে।’

আরও পড়ুন:

ব্রেক্সিটের পর দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস শুরু হয়। যার ফলে সৃষ্ট নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রভাব সামাল দিতে বিপাকে পড়ে দেশটির অন্যতম বড় দুই রাজনৈতিক দল কনজারভেটিভ ও লেবার পার্টি। একের পর এক নতুন নেতৃত্ব এসেও যার সমাধান মেলেনি।

স্থানীয়দের একজন বলেন, ‘ধীরে ধীরে আমরা বুঝতে শুরু করলাম যে আমরা ঠিক স্বচ্ছন্দ বোধ করছিলাম না। কারণ ব্রেক্সিট আমার কাজের ওপর তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেনি। তবে, একজন ইউরোপীয় হিসেবে, যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী একজন পোলিশ হিসেবে এটি আমাকে কিছুটা অস্বস্তিতে ফেলেছে।’

এ গণভোট কনজারভেটিভ পার্টির রাজনৈতিক ভিত্তি নড়িয়ে দেয়। দলটির অসংখ্য পুরনো ভোটার ব্যবসাবান্ধব ও ইউরোপীয় ইউনিয়নপন্থি অবস্থান থেকে সরে গিয়ে ব্রেক্সিটপন্থি রাজনীতির দিকে ঝুঁকে পড়েন।

অন্যআরেকজন বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের ইউরোপের আরও কাছাকাছি আসা উচিত। আমার মতে, যখন তারা ইইউয়ের অংশ ছিলো তখন পরিস্থিতি আরও ভালো ছিলো। ইউরোপ থেকে যুক্তরাজ্যে মানুষের যাতায়াত করা সহজ ছিলো। যুক্তরাজ্য এখন ভালো সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে না। কারণ আমার মনে হয় না যে, তারা ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়েছে।’

এদিকে, ব্রেক্সিট ভোটের দশ বছর উপলক্ষে ব্রিটিশ কৃষিজমিতে ব্রেক্সিট-বিরোধী বার্তা খোদাই করে ভিন্নধর্মী উপায়ে প্রতিবাদ করেছে লেড বাই ডঙ্কিজ নামের একটি ব্রেক্সিট-বিরোধী প্রচার গোষ্ঠী। ইংল্যান্ডের এক কৃষকের জমিতে আন্দোলনকারীরা ঘাস কেটে একটি বিশাল আকারের বার্তা ফুটিয়ে তুলেন।

এফএস