ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধীদের পুরুষত্বহীন বা দুর্বল হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা কিংবা ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থীকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা—সবই করা হচ্ছে ট্রাম্পের পেশিবহুল ইমেজকে বড় করে দেখানোর জন্য। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের বড় একটি অংশকে নিজের দিকে টানতে ট্রাম্প জো রোগানের মতো প্রভাবশালীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলেছিলেন। এমনকি বাটলারে পেনসেলভ্যানিয়া নিজের ওপর হওয়া হামলার পর রক্তমাখা কানে মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে তার ‘ফাইট, ফাইট, ফাইট’ স্লোগান ছিল পৌরুষত্ব প্রদর্শনের অন্যতম হাতিয়ার।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ট্রাম্প প্রতিরক্ষা দপ্তরকে ‘ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার’ বা ‘যুদ্ধ দপ্তর’ হিসেবে নামকরণের চেষ্টা করেছেন। তিনি এক ডজনের বেশি দেশকে হুমকি দিয়েছেন এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছেন। এছাড়া মাদক চোরাচালানের অভিযোগে কোনো বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াই নৌকা আরোহী ২০০-এর বেশি মানুষকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন, যা নিয়ে যুদ্ধাপরাধের প্রশ্ন উঠেছে। গত বছর দীর্ঘ আকাঙ্ক্ষিত সামরিক কুচকাওয়াজ এবং ওয়াশিংটনে একটি বিশাল ‘বিজয় তোরণ’ নির্মাণের পরিকল্পনাও ছিল তার ‘স্ট্রংম্যান’ বা শক্তিশালী নেতা সাজার চেষ্টার অংশ।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, তবে এসব আয়োজন সত্ত্বেও ট্রাম্পের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার অভ্যন্তরীণ সফর কমে গেছে এবং জনসম্মুখে তাকে প্রায়ই ঝিমোতে দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক জরিপগুলো বলছে, অন্তত ৫৩ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন ট্রাম্প একজন শক্তিশালী নেতা নন। সিএনএনের জরিপে ৫৮ শতাংশ মানুষ তাকে ‘কার্যকর বিশ্বনেতা’ হিসেবে মানতে নারাজ। রয়টার্স-ইপসোসের মার্চ মাসের এক জরিপে দেখা গেছে, ৬১ শতাংশ মানুষ ট্রাম্পকে সরকারের কাজ করার জন্য ‘অত্যন্ত বয়স্ক’ এবং বয়সের কারণে ‘অসংলগ্ন’ মনে করেন।
নির্বাচনের আগে কমলা হ্যারিসের সঙ্গে নৈতিকতার বিচারে পিছিয়ে থাকলেও ট্রাম্পের ‘শক্তিশালী ও সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম’ ভাবমূর্তি তাকে জয়ী করেছিল। কিন্তু বর্তমানে ইরান যুদ্ধ, লাগামহীন মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে মার্কিনিরা তার বিচারবুদ্ধির ওপর আস্থা হারাচ্ছেন। গত সপ্তাহের এক জরিপ বলছে, মাত্র ১৬ শতাংশ মানুষ হোয়াইট হাউসের লনে এ ধরনের মিক্স মার্শাল-আর্ট ফাইটিং বা লড়াই আয়োজনকে যথাযথ মনে করেন। বিশ্লেষকদের মতে, ৮০ বছরে পদার্পণ করা ট্রাম্পের এমন পেশিবহুল আসর মূলত তার ভেঙে পড়া ভাবমূর্তি আড়াল করার একটি চেষ্টা মাত্র।





