নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে ইরান যেসব তথ্য ফাঁস করেছে, লিখিত চুক্তিতে তেমন কিছু নেই।’ তিনি লেখেন, ‘চুক্তি নিয়ে তারা যে দুর্বল ও করুণ বিবৃতি দিয়েছে, তার সঙ্গে সত্যের কোনো সম্পর্ক নেই। এদের সঙ্গে লেনদেন করা খুবই অসম্মানজনক। ওদের মধ্যে সততা বলতে কিছু নেই। আশ্চর্যজনক!’
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা ইরনার দাবি অনুযায়ী, চুক্তি সই হওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আটকে রাখা সম্পদের একটি অংশ ছেড়ে দেবে এবং বাকিটা পরবর্তী আলোচনার মাধ্যমে ধাপে ধাপে দেয়া হবে। এছাড়া ইরানের পরমাণু কর্মসূচিও অপরিবর্তিত থাকবে বলে দাবি করেছে তেহরান।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, এই চুক্তির আওতায় ইরানের পরমাণু সরঞ্জাম ‘ধ্বংস ও অপসারণ’ করা হবে এবং তাদের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হবে। মার্কিন ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ধারণা করছেন, ইরানের কাছে বর্তমানে ৪০৮ কেজি উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত তাদের কোনো অর্থ ছাড় দেয়া হবে না। হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকবে এবং ইরান কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে অর্থায়ন করতে পারবে না। তারা এই শর্তেই রাজি হয়েছে।’
গতকাল (বৃহস্পতিবার, ১১ জুন) ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, একটি সমঝোতায় পৌঁছানোয় তিনি ইরানের ওপর নতুন হামলা স্থগিত করেছেন। তবে আজ (শুক্রবার, ১২ জুন) ইরানি কর্মকর্তাদের বর্ণনায় চুক্তির যে রূপ পাওয়া গেছে, তাতে মনে হচ্ছে তারা নিজেদের দাবিগুলোই আদায় করে নিয়েছে। বিপরীতে ট্রাম্পের চাওয়া অনুযায়ী কেবল হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।
রয়টার্সকে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র জানায়, খসড়া অনুযায়ী ইরানের তেল খাতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে এবং লেবাননসহ সব ফ্রন্টে বৈরিতা বন্ধের শর্ত থাকবে। ওয়াশিংটন চায় ইরান যেন কখনোই পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করে, যদিও ইরান বরাবরই পরমাণু অস্ত্র তৈরির দাবি অস্বীকার করে আসছে।



 in The Hague Netherlands-320x167.webp)

