যুক্তরাজ্যের সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির ক্রমবর্ধমান চাহিদা কীভাবে মেটানো হবে, তা নিয়ে কয়েক মাস ধরে প্রতিরক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আলোচনা চলছিল। কিন্তু আলোর মুখ দেখেনি প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনাটি। বিবিসি বলছে, সরকার আগামী চার বছরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য ১৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন পাউন্ড তহবিল বৃদ্ধির ঘোষণা দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু তা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুরোধ করা অতিরিক্ত ২৮ বিলিয়ন পাউন্ডের চেয়ে কম। আর বিরোধের শুরু এখান থেকেই।
মূলত সরকারের সামরিক ব্যয় পরিকল্পনা ইস্যুতে একমাসেরও বেশি সময় ধরে বিবাদের পর অবশেষে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করলেন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি। প্রধানমন্ত্রী স্টারমারকে দেয়া পদত্যাগপত্রে তিনি জানান, প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনায় সামরিক বাহিনীর যে পরিমাণ অর্থ দরকার, সরকার তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। এমনকি দেশকে নিরাপদ রাখতে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয় করছে না বলেও অভিযোগ করেন হিলি।
আরও পড়ুন:
হিলির পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টা পরই নিজ পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী এলিস্টার কার্নস। প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনাটি যথেষ্ট কার্যকর নয় এবং এ খাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নেই বলে তিনি তার পদত্যাগ পত্রে উল্লেখ করেন।
এরইমধ্যে নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেলেন সাবেক নিরাপত্তা মন্ত্রী ড্যান জারভিস। তাকে এখন সামাল দিতে হবে সামরিক ব্যয় বিষয়ক পরিকল্পনার অর্থ বরাদ্দ নিয়ে। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে তাৎক্ষণিকভাবে জারভিসকে নিয়োগ দেয়া হলেও পরপর দুই মন্ত্রীর পদত্যাগে আবারো নড়েচড়ে বসছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের মন্ত্রীসভা। এর আগে মে মাসে স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে মতবিরোধের জেরে পদত্যাগ করে আরও ৫ মন্ত্রী। এবারে প্রতিরক্ষায় অর্থ বরাদ্দ নিয়ে বিতর্কের জেরে কিয়ার স্টারমারের এমন অবস্থান আবারও ঝুঁকি তৈরি করছে তার প্রধানমন্ত্রীত্ব পদের।




