রাতারাতি উত্তাল পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীর। মঙ্গলবার রাওয়ালকোটে নিষিদ্ধ এক নাগরিক সংগঠনের সরকার-বিরোধী বিক্ষোভে চড়াও হয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। এতে বহু মানুষ হতাহত হন।
মূলত, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে বাড়তে থাকা মূল্যস্ফীতি, বিদ্যুতে শুল্ক, বেকারত্ব এবং রাজনীতিতে আরও বেশি প্রতিনিধিত্বের দাবি নিয়ে প্রতিবাদে সরব হয় নাগরিক সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি জেএএসি। কিন্তু গেল সপ্তাহে জেএএসি-কে নিষিদ্ধ সংগঠন ঘোষণা করে স্থানীয় প্রশাসন। এর পরপরই বিক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে আজাদ কাশ্মীর।
এর জেরে শুক্রবার রাতে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুরু হয় তীব্র সংঘর্ষ। জানা গেছে স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছিলেন ঐ ব্যবসায়ী।
এই বিক্ষোভ নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব দাঁড় করালেও, বিবিসি-আল জাজিরার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে কেন হঠাৎ করেই অস্থির হয়ে উঠলো পাকিস্তানের আজাদ কাশ্মীর।
আরও পড়ুন:
আজাদ কাশ্মীরের আইনসভার ৪৫টি আসনের মধ্যে ১২টি আসন ভারত-শাসিত কাশ্মীর থেকে পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাসকারীদের জন্য সংরক্ষিত। যারা আজাদ কাশ্মীরে থাকেন না সেই শরণার্থীদের জন্য এতগুলো আসন ছেড়ে দেয়াকে সহজভাবে নিতে পারছেন না স্থানীয়রা।
জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি নামের ঐ সংগঠনটি এই সংরক্ষিত আসনগুলো বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিল। কিন্তু সংগঠনটিকে 'সন্ত্রাসবিরোধী আইন'-এর আওতায় নিষিদ্ধ করে আজাদ কাশ্মীর সরকার, যা সাধারণ মানুষকে আরও ক্ষুব্ধ করে তোলে।
পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালতের রায়, এই আসনগুলো সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত। তাই সাধারণ কোনো সরকারি আদেশ বা আন্দোলনের চাপে এগুলো বাতিল করা যাবে না। যা কোনোভানেই মানতে রাজি নন স্থানীয়রা।
এছাড়াও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল, আটার সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বেকারত্ব নিয়ে গেল বছর থেকে আন্দোলন করছিলেন স্থানীয়রা। তবে ১২ আসন বিতর্ক আর আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির ওপর নিষেধাজ্ঞা জনরোষ আরও বাড়িয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে সরকার, মোতায়েন করা হয়েছে সেনাও। এমন প্রেক্ষাপটে আল জাজিরা'র বিশ্লেষণ বলছে, সরকার বিরোধীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ অঞ্চলটির শাসনব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী এক বিতর্কের বহিঃপ্রকাশ। একে নির্দিষ্ট সংগঠনের ষড়যন্ত্র হিসেবে চালিতে দিতে চাইছে আজাদ কাশ্মীরের সরকার কিন্তু তা ক্রমেই বৃহত্তর গণ আন্দোলনে রূপ নিচ্ছে।





