টাপানুলি ওরাংওটাং বিশ্বের সবচেয়ে বিপন্ন বৃহৎ বনমানুষ বা ‘গ্রেট এপ’ হিসেবে পরিচিত, যাদের সংখ্যা বর্তমানে ৮০০-এরও কম। গবেষকরা জানিয়েছেন, গত নভেম্বরের শেষ দিকে ঘূর্ণিঝড় সেনইয়ারের আঘাতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এক হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। বন্যপ্রাণীর ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত হিসাব বের করা কঠিন হলেও এই দুর্যোগে ওরাংওটাংয়ের প্রাণহানি তাদের অস্তিত্বকে চরম সংকটে ফেলেছে।
গবেষণার অন্যতম লেখক ও বোর্নিও ফিউচারসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক এরিক মেইজার্ড জানান, ঘূর্ণিঝড়ের কয়েক সপ্তাহ পর ধ্বংসস্তূপের নিচে টাপানুলি ওরাংওটাংয়ের দেহাবশেষ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, ‘কয়েক হেক্টর বনভূমি যদি ভূমিধসের নিচে চলে যায়, তবে শক্তিশালী ওরাংওটাংগুলোও সেখানে অসহায় হয়ে পড়ে। বনের ভেতর সেই সময়টা ছিল নরকতুল্য।’
২০১৭ সালে প্রথম আবিষ্কৃত এই প্রজাতিটি বছরে মাত্র ১ শতাংশ হারে কমলেই বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। সেখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগে এক সপ্তাহেই ৭ শতাংশ প্রাণহানিকে বড় ধরনের বিপর্যয় হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। গবেষকরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই এলাকায় অতিবৃষ্টির তীব্রতা ও সংখ্যা বাড়ছে, যা ওরাংওটাং ও তাদের আবাসস্থলের জন্য সরাসরি হুমকি।
বর্তমানে ইন্দোনেশিয়া সরকার সুমাত্রার বাতাং তোরু সংরক্ষিত বনাঞ্চলে খনি খনন, পাম তেল উৎপাদন ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো বড় উন্নয়ন কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। গবেষকরা মনে করেন, এই বিরল প্রজাতিকে রক্ষা করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও জলবায়ু-সহনশীল পরিকল্পনা প্রয়োজন। অন্যথায় আধুনিক যুগে প্রথম কোনো ‘গ্রেট এপ’ প্রজাতির বিলুপ্তি দেখার ঝুঁকি তৈরি হবে।





