দাতারা অর্থ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিলেও প্রাদুর্ভাবের বিশালতা, মজুত কমে যাওয়া এবং লজিস্টিক সমস্যার কারণে ফেস শিল্ড, অ্যালকোহল জেল ও বুটের মতো সরঞ্জামের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত মঙ্গলবার ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি) সতর্ক করে বলেছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম পুরোপুরি শেষ হয়ে যেতে পারে।
তিনটি আক্রান্ত প্রদেশের একটি উত্তর কিভুতে ৫৫০ জনের বেশি মানুষ আক্রান্ত এবং ১০০ জন নিহত হয়েছেন। ওই অঞ্চলের প্রধান চিকিৎসক পাবলো লওয়ানজো পালুকু জানান, তাদের কাছে ক্লোরিন প্রায় শেষ এবং চিকিৎসকদের জন্য পর্যাপ্ত বুট নেই। এমনকি বডি ব্যাগ বা অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় ইবোলায় মৃত ব্যক্তির দেহ সাধারণ নীল ত্রিপলে মুড়িয়ে একটি ট্যাক্সির ছাদে করে পরিবহন করতে দেখা গেছে। পালুকু আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমাদের যা আছে তার সবই কোনোমতে জোড়াতালি দেয়া।’
আফ্রিকা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (আফ্রিকা সিডিসি) জানিয়েছে, আগামী তিন মাসের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর মাত্র চার ভাগের এক ভাগ কঙ্গো ও উগান্ডায় পৌঁছেছে। বিরল ‘বুন্দিবুগিও’ প্রজাতির এই ভাইরাসে এ পর্যন্ত ৩৪ জন স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন সাতজন। এদিকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় আমদানি ব্যাহত হওয়ায় সুরক্ষা সরঞ্জামের দাম গত মাসের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে।
সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ত্রাণ তহবিলে কাটছাঁটের কারণে। প্রথম সারির উদ্ধারকর্মীদের দাবি, প্রাদুর্ভাব শনাক্ত করতে দেরি হওয়া এবং মার্কিন সাহায্য সংস্থা ইউএসএআইডি বিলুপ্ত হওয়ার ফলে তারা এখন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পিছিয়ে পড়ছেন। এর আগে ২০১৮-২০২০ সালের ইবোলা প্রাদুর্ভবে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৬০ কোটি ডলার সহায়তা দিয়েছিল, যা ছিল ইতিহাসের অন্যতম দ্রুততম ও সুসজ্জিত সাড়াদান। কিন্তু বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে ইউএসএআইডি বন্ধ করে দেয়া এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে আসা এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী বলে মনে করছেন অনেকে।
কেয়ার নামক সংস্থার কঙ্গো পরিচালক আমাদু বোকুম বলেন, ‘আমি বলতে চাই যে আমাদের কাছে মজুত ছিল, কিন্তু বাস্তবে কিছুই ছিল না।’ ইউএসএআইডি-র এক প্রাক্তন কর্মকর্তা বলেন, ‘আগে আমাদের একটি ব্যবস্থা ছিল, যা নিখুঁত না হলেও খুব কার্যকর ছিল। এখন আমরা উড়ন্ত অবস্থায় বিমান বানানোর চেষ্টা করছি।’
আফ্রিকা সিডিসিকে পরামর্শ দেয়া অধ্যাপক সালিম আব্দুল করিম বলেন, ইউএসএআইডি-র লজিস্টিক দক্ষতা এখন ভীষণভাবে অনুভূত হচ্ছে। রণাঙ্গনের চিকিৎসকদের জন্য সুরক্ষা সরঞ্জাম পৌঁছাতে শুরু করলেও তা অনেকের জন্য অনেক দেরি হয়ে গেছে। বুনিয়ার চিকিৎসক ডেনিস উরউথুন বলেন, ‘আমরা মাছির মতো মরছি। আমি ইতোমধ্যে আমার তিন সহকর্মীকে হারিয়েছি।’





