হিজবুল্লাহর সঙ্গে খুব ভালো আলোচনা হয়েছে—ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: রয়টার্স
0

লেবাননে চলমান সংঘাত নিরসনে এবং ইসরাইলের সঙ্গে একটি কার্যকর যুদ্ধবিরতি কার্যকরের লক্ষ্যে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে ‘খুব ভালো আলোচনা’ হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী নতুন করে উচ্ছেদ ও হামলার নির্দেশ দেয়ার পর গতকাল (সোমবার, ১ জুন) ট্রাম্প এই দাবি করেন। মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে লেখেন, ‘ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বিবি নেতানিয়াহুর সঙ্গে আমার ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বৈরুতে কোনো (ইসরাইলি) সেনা যাবে না এবং যেসব সেনা সেদিকে অগ্রসর হচ্ছিল, তাদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে।’ ট্রাম্প আরও যোগ করেন, ‘একইভাবে উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদের মাধ্যমে হিজবুল্লাহর সঙ্গেও আমার খুব ভালো কথা হয়েছে। তারা সব ধরনের গোলাগুলি বন্ধ করতে রাজি হয়েছে—ইসরাইল তাদের আক্রমণ করবে না এবং তারাও ইসরাইলকে আক্রমণ করবে না।’

তবে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কে বা কারা কথা বলেছেন, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্য হাসান ফজলুল্লাহ গতকাল (সোমবার, ১ জুন) এক বিবৃতিতে জানান, তারা পুরো লেবাননজুড়ে ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি’ সমর্থন করেন, যা হবে লেবানিজ ভূখণ্ড থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের প্রথম ধাপ। তবে উত্তর ইসরাইলে হিজবুল্লাহর হামলা বন্ধের বিনিময়ে কেবল বৈরুতে হামলা না করার যে ‘আংশিক যুদ্ধবিরতির’ প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল, তা প্রত্যাখ্যান করেছে গোষ্ঠীটি।

আরও পড়ুন:

লেবাননের প্রেসিডেন্সি থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে যে, হিজবুল্লাহ যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবিত ‘পারস্পরিক হামলা বন্ধের’ বিষয়ে সম্মত হয়েছে, যা পুরো লেবাননজুড়ে কার্যকর হওয়ার কথা। কিন্তু ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু তার অনড় অবস্থানের কথা জানিয়ে এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আমি বলেছি, হিজবুল্লাহ যদি আমাদের শহর ও নাগরিকদের ওপর হামলা বন্ধ না করে, তবে ইসরাইল বৈরুতে সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে যাবে। আমাদের এই অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।’ একই সঙ্গে তিনি জানান, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সেনাদের অভিযান পরিকল্পনা অনুযায়ী চলবে।

এদিকে হিজবুল্লাহর ওপর হামলা ও ইসরাইলের নতুন হুমকির মুখে সোমবার থেকে বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলির বাসিন্দারা আবারও ঘরবাড়ি ছাড়তে শুরু করেছেন। গত ১৬ এপ্রিল ট্রাম্প লেবাননে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও বাস্তবে হামলা থেমে নেই। এর আগে গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের ফলে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার দাবিতে ইসরাইল তাদের হামলা আরও জোরদার করে।

অন্যদিকে ইরান আলোচনার টেবিল থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে বলে গণমাধ্যমে আসা খবরগুলো নাকচ করে দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সঙ্গে দ্রুতগতিতে আলোচনা চলছে।’ অথচ এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ইরানি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছিল, লেবাননে ইসরাইলি অপরাধ অব্যাহত থাকায় এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘিত হওয়ায় তেহরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা স্থগিত করেছে। তাসনিম আরও জানিয়েছে, ইরান ও তাদের মিত্ররা এখন হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া এবং লোহিত সাগরের বাব এল মান্দেব প্রণালিসহ অন্যান্য রণাঙ্গন সক্রিয় করার সংকল্প নিয়েছে।

এএম