নেতানিয়াহুর নজরে এখন লেবানন। ২০০৬ সালের পর এই প্রথম দক্ষিণ লেবাননের লিতানি নদী পার হয়ে নাবাতিয়েহ শহর ঘিরে ফেলেছে ইসরাইলি সেনারা। হিজবুল্লাহর নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন করতে কয়েক দশক ধরে এ শহর ও আশেপাশের এলাকা ছিল আইডিএফের টার্গেট লিস্টে।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় গেল বুধবার থেকে লেবাননে ভয়াবহ অভিযান শুরু করে ইসরাইল। প্রথমে পুরো দক্ষিণ লেবানন খালি করার নির্দেশ দেয় আইডিএফ। ধীরে ধীর দখলে করে নেয় লেবাননের ২ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা, যা দেশের মোট ভূখণ্ডের ২০ শতাংশ।
এরপর সীমান্ত থেকে ৩০ কিলোমিটার ভেতরে লিতানি নদী পাড় করে গুরুত্বপূর্ণ নাবাতিয়েহ অঞ্চল কব্জা করতে শুরু করেছে ইসরাইলি সেনারা। শহরটি লেবানন উপকূলের সঙ্গে পাহাড়ি অঞ্চল ও সমতলের সংযোগস্থল। এরআগে বৈরুতে হিজবুল্লাহর শক্ত অবস্থান লক্ষ্য করে অভিযান চালায় ইসরাইল।
আরও পড়ুন:
স্থলভাগে অগ্রসর হওয়ার পাশাপাশি, সীমান্ত থেকে হিজবুল্লাহ'র ঘাঁটি লক্ষ্য করে দফায় দফায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে আইডিএফ। শনিবারের হামলায় বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছে বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
এদিকে, ভয়াবহ এই পরিস্থিতির মধ্যেই লেবানিজ সেনাদের সহায়তায় শহর ছাড়ছে নাবাতিয়াহর বাসিন্দারা। অ্যাম্বুলেন্সে করে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে তাদের।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একজন বলেন, ‘আমরা আলি আল-তাহের পাহাড়ের আশেপাশের এলাকায় থাকি। বিউফোর্ট ক্যাসেলের আশেপাশে গোলাবর্ষণ হচ্ছে। উপত্যকাগুলোর একটা ফলের বাগানে আশ্রয় নিয়েছি। বলা যায় না ড্রোনগুলো কখন আমাদের ওপর এসে পড়ে। ইসরাইলিরা কাউকেই ছাড়ছে না।’
এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের উদ্বেগ, চলমান এই সংঘাতের জেরে দক্ষিণ লেবাননে ত্রাণ সরবরাহ ব্যাপকহারে ব্যাহত হচ্ছে। তবে ইসরাইলি বাহিনীর বিমান হামলা ও স্থল অভিযানের তৎপরতা নজরে রাখছে সংস্থাটির শান্তিরক্ষা মিশন।




