চট্টগ্রামের খোরশেদ আলম আট বছর ছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে। দেশে ফিরে প্রবাস জীবনের সঞ্চয়, ব্যাংক ঋণ ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে শুরু করেছেন পুরোনো ল্যাপটপের ব্যবসা। তার এ উদ্যোগে কয়েকজনের কর্মসংস্থানও হয়েছে। তবে ব্যবসা শুরু করতে গিয়ে সরকারি সহায়তার অভাবের কথা জানান তিনি।
খোরশেদ আলম বলেন, ‘দীর্ঘ আট বছর বিদেশে ছিলাম। দেশে ফিরে সরকার থেকে তেমন কোনো সহযোগিতা পাইনি। আত্মীয়স্বজনের সহায়তায় ব্যবসা শুরু করেছি।’
অন্যদিকে, ফেনীর ইকবাল হোসেন ২৫ বছর সৌদি আরবে কাজ করার পর দেশে ফিরে প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করেছেন বহুতল ভবন। সেই ভবন থেকে এখন প্রতি মাসে প্রায় ৭০ হাজার টাকা ভাড়া আয় করছেন তিনি।
প্রবাসী আয়ের প্রভাবে ফেনী, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দৃশ্যমান অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও ক্ষুদ্র-মাঝারি ব্যবসার প্রসার ঘটছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে ঢাকা বিভাগের প্রবাসীদের কাছ থেকে। এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনা বিভাগ।
আরও পড়ুন
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রবাসীদের বড় একটি অংশ বিদেশ যাওয়ার আগে নেয়া ঋণ পরিশোধ, পরিবার পরিচালনা ও বাড়ি নির্মাণে অর্থ ব্যয় করেন। কেউ কেউ জমি কেনা, কৃষি, দোকান বা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে বিনিয়োগ করলেও নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয় তাদের। বিনিয়োগ নিরাপত্তার অভাব, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও পর্যাপ্ত সহায়তা না পাওয়াকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন তারা।
সেন্টার ফর এনআরআরআই’র চেয়ারম্যান এম এস সেকিল চৌধুরী বলেন, ‘গুচ্ছভিত্তিক বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা গেলে প্রবাসীদের অর্থ দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় পরিবর্তন আনতে পারত।’
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রবাসী আয় দেশের আমদানি সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে প্রবাসীদের জন্য সুশৃঙ্খল সঞ্চয় ও নিরাপদ বিনিয়োগ কাঠামো তৈরি জরুরি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী বলেন, ‘প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ কোনো না কোনোভাবে রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে এটিকে আরও পরিকল্পিতভাবে উৎপাদনশীল খাতে নেয়া প্রয়োজন।’
অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘প্রবাসীদের রেমিট্যান্স কার্যকরভাবে কাজে লাগানো গেলে তারা সঞ্চয় ও বিনিয়োগে আরও বেশি উৎসাহিত হতেন।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবাসীদের জন্য নিরাপদ ও সহজ বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে রেমিট্যান্স শুধু পারিবারিক ব্যয় মেটানোর মাধ্যম নয়, দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নেরও বড় চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে।





