দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের প্রারম্ভিক বক্তব্যে ট্রাম্প শি জিনপিংকে ‘বন্ধু’ সম্বোধন করে বলেন, ‘আপনার সাথে দেখা হওয়াটা সম্মানের। আপনি একজন মহান নেতা। মাঝেমধ্যে মানুষ আমার এই বলাটা পছন্দ করে না, কিন্তু আমি তবুও বলি কারণ এটিই সত্য।’ ট্রাম্প আরও যোগ করেন যে কেউ কেউ একে ‘ইতিহাসের সর্ববৃহৎ সম্মেলন’ হিসেবে বর্ণনা করছেন। অতীতে দুই দেশের টানাপোড়েনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘যখনই কোনো সমস্যা হয়েছে, আমরা ফোনে কথা বলে তা দ্রুত সমাধান করেছি। আমাদের সামনে এক চমৎকার ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।’
এই সফরে ট্রাম্পের সাথে ইলন মাস্ক ও এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াংসহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় একদল ব্যবসায়ী বেইজিং এসেছেন। ট্রাম্পের লক্ষ্য হলো চীনের বাজার আরও উন্মুক্ত করা এবং গত বছর শুরু হওয়া বাণিজ্য যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি এড়ানো। তবে বক্তব্যে তিনি তাইওয়ান বা ইরান যুদ্ধ নিয়ে দুদেশের বিরোধের কথা এড়িয়ে গেছেন।
অন্যদিকে শি জিনপিং তার বক্তব্যে ‘সংঘাত’ নয় বরং ‘সহযোগিতা’র ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্ব এমন এক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে যা গত ১০০ বছরে দেখা যায়নি।’ শি জিনপিং ঐতিহাসিক ‘থুসিডাইডস ট্র্যাপ’ বা দুই পরাশক্তির অনিবার্য যুদ্ধের তত্ত্বটি উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন—চীন ও যুক্তরাষ্ট্র কি এই ফাঁদ এড়িয়ে বড় দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্কের একটি নতুন উদাহরণ তৈরি করতে পারবে? তিনি আরও বলেন, ‘পুরো বিশ্ব আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। আমরা কি বিশ্বকে আরও স্থিতিশীলতা দিতে পারব?’
দুই দিনের এই সম্মেলনের প্রধান লক্ষ্য হলো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। তবে পর্দার আড়ালে তাইওয়ানে যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব ও ইরান সংকটের মতো বিষয়গুলো নিয়ে কঠিন দর-কষাকষি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুক্রবার দুপুরে শি জিনপিংয়ের সাথে শেষ দফা একান্ত বৈঠকের পর ট্রাম্পের বেইজিং ত্যাগের কথা রয়েছে।





