নেতৃত্বের শূন্যতা, ক্রমবর্ধমান লোকসান, আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সংকটের কারণে এয়ার ইন্ডিয়ার ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা এখন বড় প্রশ্নের মুখে। গত মাসে সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ক্যাম্পবেল উইলসন মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের মার্চে শেষ হতে যাওয়া অর্থবছরে এয়ার ইন্ডিয়ার লোকসান ২৪০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে।
২০২২ সালে ভারত সরকারের কাছ থেকে এয়ার ইন্ডিয়া কিনে নেয় টাটা গ্রুপ। বর্তমানে এটি টাটা গ্রুপের সবচেয়ে বড় লোকসানি প্রতিষ্ঠান। আহমেদাবাদ দুর্ঘটনার পর থেকেই সংস্থার অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। গত মাসে সংস্থার মুম্বাই সদর দপ্তরে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। বর্তমানে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের হাতে এয়ার ইন্ডিয়ার ২৫ দশমিক ১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যাম্পবেল উইলসনের বিদায় এমন এক সময়ে নেতৃত্বশূন্যতা তৈরি করেছে যখন সংস্থাটি চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া ব্র্যান্ড ইমেজ উন্নত করার বদলে গত এক বছরে এয়ার ইন্ডিয়াকে বারবার নিরাপত্তা লঙ্ঘন ও পরিচালনগত ভুলের জন্য জবাবদিহি করতে হয়েছে। গত মার্চে দিল্লি থেকে ভ্যাঙ্কুভারগামী একটি ফ্লাইট কানাডার আকাশসীমায় প্রবেশের অনুমতি না থাকায় আট ঘণ্টা ওড়ার পর ফের দিল্লিতে ফিরে আসে। এছাড়া গত বছরের বার্ষিক অডিটে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়ার ৫১টি নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত করেছে।
সংস্থার আর্থিক পরিস্থিতির অবনতির পেছনে রুপির অবমূল্যায়নও বড় ভূমিকা রাখছে। ডলারের বিপরীতে রুপির মান ১০ শতাংশের বেশি কমে যাওয়ায় জ্বালানিসহ অন্যান্য খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে সংস্থাটি। এছাড়া সরবরাহ ব্যবস্থার সংকটে নতুন উড়োজাহাজ হাতে পেতেও দেরি হচ্ছে। ফলে দিল্লি-ওয়াশিংটন এবং মুম্বাই-সান ফ্রান্সিসকোর মতো গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলো বন্ধ করতে হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আহমেদাবাদ দুর্ঘটনার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনে যদি এয়ার ইন্ডিয়ার কোনো অবহেলা বা নিরাপত্তা ত্রুটি ধরা পড়ে, তবে তা সংস্থার ভাবমূর্তির জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হবে। বিধ্বস্ত দশা কাটিয়ে টাটা গ্রুপ এবং সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স নতুন করে অর্থ জোগান দিয়ে এই ‘এয়ারলাইন্স’কে রক্ষা করতে পারবে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।





