বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে দেওয়া ভাষণে পুতিন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে ইউক্রেন যুদ্ধে লিপ্ত সেনাদের উৎসাহিত করেন। ক্রেমলিনের ব্যবহৃত ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে তিনি বলেন, ‘বিজয়ীদের সেই মহান কীর্তি আজ বিশেষ সামরিক অভিযানে নিয়োজিত যোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করছে। তারা পুরো ন্যাটো জোটের সমর্থনপুষ্ট এক আগ্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়ছে। তা সত্ত্বেও আমাদের নায়কেরা এগিয়ে যাচ্ছে। জয় সব সময় আমাদের ছিল এবং আমাদেরই হবে।’
পুতিনের কণ্ঠে আত্মবিশ্বাসের সুর থাকলেও এবারের আয়োজন ছিল অনেকটাই জৌলুসহীন। ইউক্রেনের দীর্ঘপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় পুরো মস্কোজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বজায় রাখা হয়, এমনকি শহরজুড়ে ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ ছিল। ২০১৭ সাল থেকে কুচকাওয়াজে ক্ষেপণাস্ত্র ও সাঁজোয়া যানের যে প্রদর্শনী নিয়মিত দেখা যেত, এবার তা পুরোপুরি অনুপস্থিত ছিল। এর বদলে ভিডিওর মাধ্যমে রাশিয়ার ড্রোন সক্ষমতা ও পারমাণবিক অস্ত্রাগার প্রদর্শন করা হয়।
এবারের কুচকাওয়াজে বেলারুশ, কাজাখস্তান ও উজবেকিস্তানের প্রতিনিধিদলের পাশাপাশি উত্তর কোরিয়ার একদল সেনাকে কুচকাওয়াজ করতে দেখা গেছে। কুচকাওয়াজটি স্থায়ী ছিল মাত্র ৪৫ মিনিট, যা আগের বছরগুলোর তুলনায় অর্ধেক।
শনিবার কুচকাওয়াজ শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় তিন দিনের যুদ্ধবিরতি ও বন্দিবিনিময়ের ঘোষণা আসে। এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ট্রাম্পের অনুরোধে রাশিয়ার বিজয় দিবস উপলক্ষে আক্রমণ না করার বিষয়ে একটি ডিক্রি জারি করেন। এই যুদ্ধবিরতি ১১ মে পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই যুদ্ধে রাশিয়ার অর্থনীতি এখন চাপের মুখে। সামরিক খাতে ব্যাপক ব্যয়ের ফলে প্রবৃদ্ধি কমছে এবং মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। রণক্ষেত্রেও রুশ বাহিনী প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। তবে এত কিছুর পরও পুতিন কোনো আপসের পথে হাঁটছেন না। ক্রেমলিন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইউক্রেনীয় বাহিনী দোনেৎস্ক অঞ্চল থেকে পুরোপুরি প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত নতুন করে কোনো ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় বসবে না মস্কো।





