এদিকে, সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সমর্থনে আয়োজিত বিশাল সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে এই অঞ্চল ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরানের বাসিন্দারা। যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের আড়াই হাজার কোটি ডলার খরচ হয়েছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। এদিকে টাকা তিনশ দিনেরও বেশি রেকর্ড অভিযান শেষে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ফেরত যাবে বিশ্বের বৃহত্তম রণতরী ইউএসএস ফোর্ড।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। ভেস্তে গেছে দ্বিতীয় দফার আলোচনার সম্ভাবনাও। এমন অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। এ ক্ষেত্রে পাকিস্তান কোনো ঘাটতি রাখবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ফোনালাপের মাধ্যমে হবে। মুখোমুখি বৈঠক তিনি পছন্দ করলেও, প্রতিবার বিমানে ১৮ ঘণ্টা ভ্রমণ করে পাকিস্তানে যাওয়ার কোনো মানে হয় না বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা প্রাধান্য পাবে, কেবল তখনই ইরানের সঙ্গে চুক্তি করবেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, তেহরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা ত্যাগ করে আত্মসমর্পণ করতে হবে। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। আর তেহরান বলছে মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেয়া এবং হুমকি বন্ধ না করা পর্যন্ত কোনো আলোচনা নয়।
আরও পড়ুন:
এমন অবস্থায় ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করার প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দীর্ঘ দেড় ঘণ্টার ফোনালাপের পর এ কথা জানান ট্রাম্প।
ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের আড়াই হাজার কোটি ডলার খরচ হয়েছে বলে জানিয়েছেন পেন্টাগনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। যার বড় একটি অংশ ব্যয় হয়েছে যুদ্ধাস্ত্রের পেছনে।
এদিকে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে কংগ্রেসের শুনানিতে বিতর্কে জড়ান মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ। ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ট্রাম্প প্রশাসনের মিথ্যাচার ও যুদ্ধকৌশলকে চরম অযোগ্য বলে সমালোচনা করলে ক্ষোভ ঝাড়েন তিনি। এ সময় যুদ্ধের পক্ষে সাফাই গেয়ে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের অকর্মণ্য বলে আক্রমণ করেন হেগসেথ।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সমর্থনে দেশজুড়ে সমাবেশ করেছে বাসিন্দারা। জাতীয় পতাকা ও প্ল্যাকার্ড হাতে জানজা শহর, তেহরানে ইমাম হুসেন স্কয়ার ও আজাদি স্কয়ারসহ বিভিন্ন শহরে সমাবেত হন হাজার হাজার ইরানি। এ সময় তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে এই অঞ্চল ছেড়ে চলে যাওয়ার দাবি জানায়।
বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকারের ব্যাপক দমন-পীড়নের নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা। মৃত্যুদণ্ড, গণগ্রেপ্তার, সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও দীর্ঘ দিন ধরে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রেখে ইরানি জনগণের অধিকার হরণ করছে বলেও মন্তব্য করে সংস্থাটি।





