ক্রেনের সাহায্যে মাটি সরিয়ে অস্থায়ী কবর থেকে তোলা হচ্ছে কফিন। এরপর তা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে দক্ষিণ লেবাননের শহর মারৌবের স্থায়ী কবরস্থানে। ইসরাইলি হামলায় শহীদ হিজবুল্লাহ সদস্য ও স্থানীয়দের মরদেহ নিয়ে রোববার শোক মিছিল করেছেন লেবানিজরা। তবে দাফন শেষে এই শহরও ছাড়তে হবে তাদের। সামরিক বলয়ের পরিধি বাড়াতে নতুন করে ৭টি শহর খালি করার নির্দেশ দিয়েছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা দপ্তর।
ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বেড়েছে ৩ সপ্তাহ। এতে ঘরছাড়া প্রায় ১০ লাখ মানুষ ধীরে ধীরে ফিরতে শুরু করেছেন নিজ এলাকায়। কিন্তু আইডিএফের হামলায় এই জনগোষ্ঠীর প্রায় ৭৫ শতাংশের বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে। তাই এলাকায় ফিরলেও মাথা গোঁজার ঠাঁই নিয়ে বিকল্প ভাবতে হচ্ছে তাদের। আর আবাসন সংকট সমাধানের বড় চ্যালেঞ্জ এখন লেবানিজ প্রশাসনের সামনে।
এদিকে কাগজে কলমে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়লেও কোনো শর্তই মানছে না ইসরাইলি সেনাবাহিনী। দক্ষিণ প্রান্তে ইসরাইল-লেবানন সীমান্ত দিয়ে শনিবার থেকে আবারও প্রবেশ করছে আইডিএফের ট্যাংক, স্থল সেনা। উদ্দেশ্য বাফার জোনের পরিধি বাড়ানো।
আরও পড়ুন:
সোমবার সকালেও দক্ষিণ লেবাননের আকাশে দেখা গেছে ধোঁয়ার কুণ্ডলি। হিজবুল্লাহ কমান্ড সেন্টারকে লক্ষ্যবস্তু করার নামে বেসামরিক এলাকায় দফায় দফায় হামলা করছে ইসরাইল। এরআগে রোববার একদিনের অভিযানে নারী শিশুসহ বেশ কয়েকজন নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করছে তারা। জবাবে, দক্ষিণ লেবানন ও ইসরাইল সীমান্তে সেনা চৌকি লক্ষ্য করে ড্রোন ছুঁড়ছে ইরানের অক্ষশক্তি সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ। এসব হামলায় ১৯ বছরের এক ইসরাইলি সেনা নিহতের দাবি করছে তেল আবিব।
প্রথম মেয়াদে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের এক ঘণ্টার মধ্যে নিজেরাই হামলা শুরু করলেও নেতানিয়াহু প্রশাসনের অভিযোগ ছিল হিজবুল্লাহ কোনো শর্ত মানছে না। অথচ লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, হিজবুল্লাহ'কে নিশ্চিহ্ন করে দিতে গেল শনিবারই সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ বল প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর অফিস। তাই প্রশ্ন ওঠে, কোনো পক্ষ যুদ্ধবিরতিকে বারবার ব্যর্থ করতে চাইছে।
তবে এখন আর ভণিতাও করছেন না নেতানিয়াহু। অকপটে মেনে নিয়েছেন লেবানন ফ্রন্টে কাজ করছে না কোনো যুদ্ধবিরতি। একদিকে বলছেন, হিজবুল্লাহ'র কারণে এই যুদ্ধবিরতি অকার্যকর হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, দেশের মানুষকে বার্তা দিচ্ছেন, ইসরাইলি যোদ্ধারা হাত গুটিয়ে বসে নেই। লেবানন ভূখণ্ড থেকে হিজবুল্লাহকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে সবধরণের ব্যবস্থাই নিচ্ছে ইসরাইলি ডিফেন্স ফোর্স।





