ধেয়ে আসছে ‘সুপার এল নিনো’: রেকর্ড তাপমাত্রার কবলে পড়তে পারে বাংলাদেশসহ বিশ্ব

সুপার এল নিনোর পূর্বাভাস
সুপার এল নিনোর পূর্বাভাস | ছবি: সংগৃহীত
0

২০২৬ এর মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্বে ফের ধেয়ে আসতে পারে সুপার এল নিনো। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস, প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ জলপ্রবাহের পর্যায় হিসেবে পরিচিত এল নিনোর কারণে রেকর্ড ছুঁতে পারে বৈশ্বিক তাপমাত্রা। এছাড়াও, এর প্রভাবে হর্ন অব আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও মধ্য এশিয়া অঞ্চলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের শঙ্কা রয়েছে। আর দক্ষিণ এশিয়ার দেশ হওয়ায় এল নিনোর কারণে বাংলাদেশেও বছরের মাঝামাঝি নাগাদ বাড়তে পারে তাপমাত্রা।

অপরিকল্পিত নগরায়ন, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো ও গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণের কারণে বিশ্ব জলবায়ু ও তাপমাত্রার প্যাটার্নে আসছে পরিবর্তন। আর এর সবচেয়ে বেশি খেসারত দিচ্ছে বাংলাদেশসহ তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলো।

এরইমধ্যে গেল শুক্রবার বিশ্ব তাপমাত্রা সম্পর্কে নেতিবাচক খবর দিল বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা। সংস্থাটি বলছে, ২০২৬ এর মে নাগাদ ফের ফিরে আসতে পারে সুপার এল নিনো। যা ভেঙে ফেলতে পারে আগের সব বৈশ্বিক উষ্ণতার রেকর্ড। এছাড়াও, বৃষ্টির প্যাটার্নে আসতে পারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মুখপাত্র ক্লেয়ার নালিস বলেন, ২০২৬ এর মাঝামাঝি নাগাদ এল নিনো ফিরে আসতে পারে। এর ফলে বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার প্যাটার্নে পরিবর্তন আসবে। বাড়বে গড় তাপমাত্রা।

এল নিনো মূলত প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ জলপ্রবাহের একটি পর্যায়। এটি মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এল নিনো সাধারণত দুই থেকে সাত বছর পর আসে এবং নয় থেকে বারো মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস বিভাগের প্রধান উইলফ্রান মুফুমা- ওকিয়া বলেন, ‘এল নিনোর কারণে বাড়বে বিশ্ব তাপমাত্রা। আমাদের শঙ্কা, ২০২৭ সাল সবচেয়ে উষ্ণতম বছর হতে যাচ্ছে এবং সবশেষ ২০২৪ সালের এল নিনোর প্রভাবে গড় তাপমাত্রা যে পরিমাণ বেড়েছিল তাও এবার ছাড়িয়ে যেতে পারে।’

এছাড়াও, এল নিনোর কারণে আফ্রিকা ও আমেরিকা মহাদেশের কিছু অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টিপাতের আগাম পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্ব জলবায়ু সংস্থা।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস বিভাগের প্রধান উইলফ্রান মুফুমা ওকিয়া বলেন, ‘এল নিনোর প্রভাবে হর্ন অব আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও মধ্য এশিয়ায় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের শঙ্কা রয়েছে। বিপরীতে, অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘস্থায়ী খরা বিরাজ করতে পারে।’

দক্ষিণ এশিয়ার দেশ হওয়ায় এল নিনোর কারণে বাংলাদেশেও বৃষ্টিপাতের প্যাটার্নে পরিবর্তন ও তাপমাত্রা বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। এছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের জলবায়ু পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, মে থেকে জুলাইয়ের মধ্যে এল নিনো তৈরির শঙ্কা ৬১ শতাংশ। এটি অন্তত ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

এর আগে এল নিনোর কারণে ২০২৪ সাল ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণতম বছর। সেসময় বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা ১ দশমিক পাঁচ পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়েছিল। এল নিনোর বিপরীত পর্যায় লা নিনা নামে পরিচিত, যা শীতল জলপ্রবাহের সঙ্গে যুক্ত।

ইএ