রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করতে নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে ইউক্রেন। দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফায়ার পয়েন্ট কাজ করছে একটি স্বল্প খরচের আধুনিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম তৈরিতে।
ইউক্রেন এবং অন্যান্য অনেক পশ্চিমা-মিত্র দেশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি প্যাট্রিয়ট সিস্টেমের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু ইরানের হামলার বিরুদ্ধে উপসাগরীয় অঞ্চলে ব্যাপক মোতায়েনের কারণে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ ক্রমশ কমে আসছে।
এমন পরিস্থিতিতে ফায়ার পয়েন্টের এই সিস্টেমটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট সিস্টেমের বিকল্প হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে—যেখানে ব্যয় অনেক কম হবে। প্রতিটি ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রতিরোধে যেখানে প্যাট্রিয়ট সিস্টেমে কয়েক মিলিয়ন ডলার খরচ হয়, সেখানে নতুন এই সিস্টেমের খরচ এক মিলিয়ন ডলারের নিচে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে। এজন্য ইউক্রেন ইউরোপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে রাডার, টার্গেটিং ও কমিউনিকেশন প্রযুক্তিতে সহযোগিতা করছে।
ফায়ার পয়েন্টের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান ডিজাইনার ডেনিস স্টিলিয়ারম্যান বলেন, ‘ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার খরচ অবশ্যই কমাতে হবে। যদি আমরা এই খরচ এক মিলিয়ন ডলারের নিচে নামিয়ে আনতে পারি, তবে তা দারুণ হবে। এটি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে।’
শুধু প্রতিরক্ষা নয়, আক্রমণাত্মক সক্ষমতাও বাড়াচ্ছে ইউক্রেন। নতুন দুটি ব্যালিস্টিক মিসাইল এফপি-সেভেন ও এফপি-নাইন উন্নয়ন করা হচ্ছে, যেগুলোর পাল্লা কয়েকশ থেকে ৮৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত। যা মস্কোকে ইউক্রেনের ব্যালিস্টিক অস্ত্রাগারের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসবে। অর্থাৎ এর ফলে দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতেও হামলার সক্ষমতা বাড়বে।
ডেনিস স্টিলিয়ারম্যান, ‘যখন আমরা রুশ নিরাপত্তা সংস্থা-র সদর দপ্তর ধ্বংস করব, মস্কোর ভেতরে কোনো সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করব, তখন তা রুশদের মানসিকতায় এবং রাশিয়ার শীর্ষ নেতাদের মানসিকতায় একটি ব্যাপক পরিবর্তন আনবে।’
বিশ্বজুড়ে যখন ড্রোন ও মিসাইল হামলার ঝুঁকি বাড়ছে, তখন এই ধরনের কম খরচের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চাহিদাও বাড়ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ইতোমধ্যেই ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।
যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৭ সালের মধ্যে এই সিস্টেম চালু করা যায়, তাহলে এটি যুদ্ধক্ষেত্রে শক্তির ভারসাম্য বদলে দিতে পারে—এবং ইউক্রেনকে বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা বাজারে বড় খেলোয়াড় হিসেবে তুলে ধরতে পারে।
তবে উৎপাদন, বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক অনুমোদনের মতো চ্যালেঞ্জ এখনও রয়ে গেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে, নতুন এই প্রযুক্তি হতে পারে ভবিষ্যতের যুদ্ধের অন্যতম নির্ধারক।





