ইরান-মার্কিন যুদ্ধে প্রয়োজন হলে সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করবে হুথিরা

ইয়েমেনের সানায় হুতি বিদ্রোহী যোদ্ধারা অস্ত্র হাতে স্লোগান দিচ্ছে
ইয়েমেনের সানায় হুতি বিদ্রোহী যোদ্ধারা অস্ত্র হাতে স্লোগান দিচ্ছে | ছবি: এপি
0

ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর নেতা আবদুল-মালিক আল-হুথি বলেছেন, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান যুদ্ধে তার আন্দোলন ‘নিরপেক্ষ নয়’। আঞ্চলিক পরিস্থিতির প্রয়োজনে তার গোষ্ঠী সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করবে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন। তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদুলুর প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

হুথি গোষ্ঠীর আল-মাসিরাহ টেলিভিশনের উদ্ধৃত টেলিভিশন ভাষণে গতকাল  (বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ)  আবদুল-মালিক আল-হুথি বলেন, ‘আমরা নিরপেক্ষ নই; তবে আমাদের অবস্থান ইসলাম ও ইসলামী উম্মাহর অন্তর্ভুক্তির ভিত্তিতে।’

তিনি বলেন, ‘মাঠপর্যায়ের যেকোনো প্রয়োজন হলে আগের দফাগুলোর মতো সামরিক অবস্থানে মোকাবিলা করা হবে।’

আবদুল-মালিক আল-হুথি বলেন, ‘ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি হামলা বিশ্বের দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।’ তিনি এই হামলাকে ‘অযৌক্তিক’ বলেও উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘গত কয়েক বছরে অঞ্চলের ঘটনাপ্রবাহ দেখায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল একটি জায়নবাদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রের পরিবর্তন এবং বৃহত্তর ইসরাইল তৈরির লক্ষ্যে এ অঞ্চলের সব দেশকে টার্গেট করছে।’

আরও পড়ুন:

ইরান-সমর্থিত হুথিরা ২০১৪ সাল থেকে রাজধানী সানাসহ ইয়েমেনের অধিকাংশ প্রদেশ নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের প্রাণঘাতী অভিযানের প্রতিশোধ হিসেবে হুথি গোষ্ঠী ইসরাইল এবং লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ওই অভিযানে ৭২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর বিমান হামলা বজায় রেখেছে। এতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে তৎকালীন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিও রয়েছেন।

এর জবাবে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ইসরাইলকে টার্গেট করেছে। পাশাপাশি জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্য করা হয়েছে। এতে হতাহত ও অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে এবং বৈশ্বিক বাজার ও বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে।

এএম