একটি শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান আর বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগ থেকে রাতারাতি আবারও অশান্ত ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলী রাজ্য মনিপুর। তরুণ বিক্ষোভকারীদের রোষের আগুনে জ্বলছে রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চুরাচন্দপুর।
ক্ষুব্ধ জনতাকে ঠেকাতে রাজপথে আগ্রাসী ভূমিকায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এসময় রাস্তায় আগুন জ্বেলে যানচলাচল আটকে রাখে বিক্ষোভকারীরা।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিক্ষোভকারীদের রোষের আগুনে জ্বলে রাজ্য। তবে জনরোষের সূত্রপাত আরও আগে। ৩৫৭ দিনের রাষ্ট্রপতির শাসনের অবসানের পর গেল বুধবার মনিপুরের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা ইউনাম খেমচাঁদ সিং। এর একদিন আগে রাজ্য বিজেপির বিধায়ক দলনেতা হিসেবে নির্বাচিত হন খেমচাঁদ। এদিন, রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন, কুকি জো গোষ্ঠী থেকে নির্বাচিত এমএলএ নেমচা কিপজেন। কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন আদিবাসী এই গোষ্ঠীর আরও দুই নেতা।
আরও পড়ুন:
এরজেরেই ছড়িয়ে পড়ে ক্ষোভ। চুরাচন্দপুর অচল করে দেয়ার ঘোষণা দেয় কুকি জো’র ছাত্র সংগঠন। এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে শহরে অতিরিক্ত আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করে রাজ্য প্রশাসন।
কুকি-জো গোষ্ঠীগুলো মণিপুর রাজ্য থেকে পৃথক হয়ে বিধানসভাসহ একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে বহুদিন ধরে। এমন এক প্রেক্ষাপটে কুকি-জো সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি সংগঠন কুকি-জো কাউন্সিল, স্থানীয় বিধায়ক বা এমএলএ এবং আরও কিছু বিদ্রোহী গোষ্ঠী একটি শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। যেখানে বলা হয়, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার কুকি-জো সম্প্রদায়ের জন্য নিজস্ব বিধানসভা ও পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ছেড়ে দেয়ার লিখিত প্রতিশ্রুতি দেয়ার আগ পর্যন্ত মণিপুর সরকার গঠনে অংশ নেবেন না কুকি সম্প্রদায়ের কোনো নেতা।
কিন্তু এ চুক্তি ভঙ্গ করে কিছু বিধায়ক সরকারে যোগ দেয়ায় সম্প্রদায়ের ঐক্য ও রাজনৈতিক অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে দাবি কুকি-জো আদিবাসীদের। বৃহস্পতিবারের বিক্ষোভ থেকে ওই বিধায়কদের সামাজিকভাবে বয়কটের দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া, শুক্রবার চুরাচন্দপুর শহরজুড়ে সর্বাত্মক শাটডাউনের পাশাপাশি গণসমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে কুকিদের ছাত্র সংগঠন কেএসও।





