পারস্য উপসাগরে মার্কিন সামরিক নৌবহরের উপস্থিতিতে যুদ্ধের দামামা বাজছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে। সম্প্রতি সরকারবিরোধী আন্দোলন দমাতে দমন-পীড়ন চালিয়ে দায়ীদের মৃত্যুদণ্ডের হুঁশিয়ারি দেয় ইরান সরকার। এরপরই ট্রাম্প হুমকি দেন বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দিলে ইরানে হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র। শুধু তাই নয় ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত ও পরমাণু অস্ত্র তৈরি বন্ধেরও আহ্বান জানায় ওয়াশিংটন।
ইরানের অভিযোগ, সরকারবিরোধী আন্দোলনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইন্ধন দিয়ে তা উসকে দিয়েছে। তেহরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি শক্তি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেয় খামেনি প্রশাসন। আর দেশটির বারবারই বলে আসছে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা নেই। তবে দেশের জনগণের স্বার্থে পরমাণু কর্মসূচির বিষয়ে সরকার এককভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার রাখে বলে জানায় ইরান।
চলমান উত্তেজনার মধ্যে অবশেষে কূটনৈতিক পথে সমাধানের পথে হাঁটছে দুই পক্ষ। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে পরমাণু ইস্যুতে আলোচনায় বসছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে এই বৈঠক। যেখানে সৌদি আরব ও মিশরের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকতে পারেন।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি জানিয়েছেন, ইরানের আশপাশে বড় বড় মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন আছে। চুক্তিতে না পৌঁছালে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে ইরানকে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘এখনো কিছুই বলা যাচ্ছে না ইরানে কী হবে।সেখানে মার্কিন বিশাল বাহিনী মোতায়েন আছে। যা ভেনেজুয়েলার অভিযানের চেয়ে অনেক বড়। আলোচনা একটি চুক্তি দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। তাদের সঙ্গে কথা হচ্ছে। যদি কোনো সমাধান না আসে, তাহলে ইরানের জন্য খারাপ কিছু অপেক্ষা করছে।’
আরও পড়ুন:
আলোচনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে তেহরানও। ইরানের আধা-সরকারি ফার্স সংবাদ সংস্থা সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, পারমাণবিক ইস্যুর কাঠামোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে প্রস্তুত তেহরান। তবে সব ধরনের আলোচনা হতে হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মানের ভিত্তিতে। তারা হুমকি বা বল প্রয়োগ করলে ইরানও একই পথে হাঁটবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ‘সম্প্রতি ষড়যন্ত্রের ব্যর্থতার পর তারাই এখন আবার কূটনীতির কথা বলছে। ইরান সর্বদা কূটনৈতিক সমাধানের জন্য প্রস্তুত। তবে তা সম অবস্থান থেকে হতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং ইরানি জনগণের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টি প্রাধান্য পাবে। হুমকি বা বল প্রয়োগ করলে ইরানও কড়া ভাষায় জবাব দিবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনা শুরুর বিস্তারিত রূপরেখা পর্যালোচনা করছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কোনো আল্টিমেটাম পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে ইরান। পরমাণু ইস্যুতে আলোচনার মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
গেল এক দশক ধরে, বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনায় একমত বা বিশ্বস্ততা অর্জন করতে পারেনি দুই দেশ। যার চূড়ান্ত পরিণতি দেখা যায় ২০২৫ সালের জুন মাসে। ইরানের ৩টি পারমাণবিক স্থাপনায় বাঙ্কার বাস্টার বোমা ফেলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও এরইমধ্যে ধ্বংসপ্রাপ্ত দুটি পারমাণবিক স্থাপনা সংস্কার করেছে ইরান। এসব স্থাপনার ওপর নতুন ছাদের ছবি স্যাটেলাইট চিত্রে ফুটে উঠেছে।





