ইরানি মুদ্রার ব্যাপক দরপতন ও ভঙ্গুর অর্থনীতির প্রতিবাদে গেল ডিসেম্বরে আন্দোলনে নামে ইরানের ব্যবসায়ীরা। পরে তা দ্রুতই সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়। এর জেরে প্রায় এক মাস ধরে শাটডাউন চলেছে দেশজুড়ে। এই সময়ে ইরানের প্রায় ৫০ শতাংশ বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান আন্দোলনে ক্ষতির পরিমাণ দেশটির জিডিপির প্রায় ১০ শতাংশ।
ইরানে সাম্প্রতিক অস্থিরতায় হুমকিতে পড়েছে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য। যার বড় ধাক্কা লেগেছে ভারতের চালের রপ্তানি বাজারে। ভারতের বৃহত্তম চাল আমদানিকারক দেশ ইরান। বিশেষ করে বাসমতি চালের তিন ভাগের দুই অংশ আসে ভারত থেকে।
ইরানে ভারতের প্রধান রপ্তানির মধ্যে বাসমতি চাল ছাড়াও রয়েছে ওষুধ, সবজি, শুকনো ফল, বাদাম, চাসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। চলমান অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও নিষেধাজ্ঞার জেরে রপ্তানিমূল্য পরিশোধ করতে পারছে না ইরানের ব্যবসায়ীরা। যার প্রভাব পড়েছে ভারতের বাজারেও।
আরও পড়ুন:
ইরানের ব্যবসায়ীরা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক হুমকিতে ভারতের বিক্রি কমে যেতে পারে। তবে, এর কারণে ফল থেকে শুরু করে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়বে। প্রতি বছর ইরানে প্রায় ৬ লাখ টন বাসমতি চাল রপ্তানি করে ভারত। বর্তমান অস্থিরতার কারণে বাসমতি চাল রপ্তানির ২ হাজার কোটি রুপির বকেয়া আটকে আছে। চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ইরানের রপ্তানি বাণিজ্যে দেখা দিয়েছে বিশৃঙ্খলা।
ভারতীয় চাল রপ্তানিকারক ফেডারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট দেব গার্গ বলেন, ইরানি আমদানিকারক ও ভারতের রপ্তানিকারকদের মধ্যে যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। যার ফলে চাবাহার ও বন্দর আব্বাসের মতো ইরানি বন্দরগুলোতে বিপুল পরিমাণে পণ্য মজুদ হয়ে আছে। এমনকি ভারতীয় বন্দরগুলোতেও প্রচুর পণ্য পড়ে আছে। বাণিজ্য ও কেনাকাটা বন্ধ হওয়ায় নষ্ট হওয়ার পথে এসব পণ্য।
এরমধ্যে গেল সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা সংশ্লিষ্ট দেশের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দেন ট্রাম্প। এছাড়া, খাদ্য আমদানিকারকদের নিম্নহারে বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহের বিধানও বন্ধ করে দেয় ইরান সরকার। আমদানি ব্যয়বহুল হয়ে পড়ায় নতুন চুক্তিতেও যেতে রাজি হচ্ছে না ব্যবসায়ীরা।
ভারতীয় চাল রপ্তানিকারক ফেডারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট দেব গার্গ বলেন, এখন সময় এসেছে নতুন বাজারের খোঁজার। তবে নতুন বাজারের সঙ্গে ইরানের সঙ্গে বিদ্যমান রপ্তানি বাণিজ্য ধরে রাখতে হবে। ভারতের চালের বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার ইরান। বর্তমান পরিস্থিতি ভারতের সমগ্র কৃষিক্ষেত্রের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
এদিকে, ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনের মুখে গেল শনিবার ভারতীয় নাগরিকদের নিজ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বিক্ষোভ আপাতত কমে গেলেও নিরাপত্তার কারণে বাসিন্দাদের ফিরিয়ে আনার কথা জানায় নয়াদিল্লি। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে তারা।
ইরান সরকার ও দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সমর্থনে ভারতের জম্মু-কাশ্মীর এবং বিক্ষোভ করে শিয়া সম্প্রদায়ের শত শত মানুষ। খামেনির পোস্টার ও ব্যানার হাতে মিছিলে অংশ নেয় তারা। এ সময় ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের নিন্দা জানায় বিক্ষোভকারীরা।





