ফেডারেল সংস্থা ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) এই ঘটনাকে একটি ‘অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদী হামলা’ বলে অভিহিত করেছে। ডিএইচএস সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোম দাবি করেছেন, মিনিয়াপলিসের রাস্তায় তাদের কর্মকর্তাদের বহনকারী একটি গাড়ি বরফে আটকে গিয়েছিল এবং সেটি উদ্ধারের সময় ওই নারী তার গাড়ি দিয়ে কর্মকর্তাদের চাপা দেয়ার চেষ্টা করেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, ওই কর্মকর্তা আত্মরক্ষার্থেই গুলি চালিয়েছেন।
তবে মিনিয়াপলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে এবং গভর্নর টিম ওয়ালজ কেন্দ্রীয় সরকারের এই দাবিকে সরাসরি মিথ্যা ও প্রোপাগান্ডা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মেয়র ফ্রে বলেন, ‘এটি কোনোভাবেই আত্মরক্ষা ছিল না, বরং একজন এজেন্টের ক্ষমতার বেপরোয়া ব্যবহার।’
ওয়াশিংটন পোস্টের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গাড়িটি যখন চলতে শুরু করে তখন ওই এজেন্ট সামনে থাকলেও শেষ গুলিটি করার সময় তিনি গাড়ির নিরাপদ পাশে সরে এসেছিলেন।
আরও পড়ুন:
ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী লিনেট রেইনি-গ্র্যান্ডেল জানিয়েছেন, তিনি গুলির শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং দেখেন আইস এজেন্টরা বন্দুক উঁচিয়ে সাধারণ মানুষকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, গুলির পর একটি অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করলেও আইস কর্মকর্তাদের গাড়ি রাস্তা আটকে রাখায় এবং এজেন্টরা মারমুখী আচরণ করায় রক্তক্ষরণরত ওই নারী সময়মতো চিকিৎসা পাননি। তার মাথায় গুলি লেগেছিল এবং পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
মিনিয়াপলিস পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহত ওই ৩৭ বছর বয়সী নারী কোনো অপরাধী বা অভিবাসন সংক্রান্ত তদন্তের লক্ষ্যবস্তু ছিলেন না। সিটি কাউন্সিল সদস্য জেসন শ্যাভেজ জানিয়েছেন, নিহত নারী একজন মার্কিন নাগরিক এবং তিনি মূলত একজন লিগ্যাল অবজারভার বা আইনি পর্যবেক্ষক হিসেবে সেখানে অভিবাসীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করছিলেন। তিনি আইস এজেন্টদের কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই গুলির ঘটনাটি ২০২০ সালে পুলিশি নির্যাতনে নিহত জর্জ ফ্লয়েডের স্মৃতিবিজড়িত এলাকা থেকে মাত্র এক মাইল দূরে ঘটায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর শত শত মানুষ রাজপথে নেমে প্রতিবাদ শুরু করেন। বিক্ষোভকারীদের দমাতে পুলিশ ও ফেডারেল এজেন্টরা টিয়ার গ্যাস, স্মোক বোম্ব বোমা এবং পেপার স্প্রে ব্যবহার করেছে। বিক্ষোভকারীরা ‘আইস হঠাও’ এবং ‘খুনি কর্মকর্তাদের বিচার করো’ বলে স্লোগান দিচ্ছেন।
হাউস মাইনরিটি লিডার হেকিম জেফরিস একটি কড়া বিবৃতিতে ডিএইচএস সেক্রেটারিকে পাকা মিথ্যাবাদী আখ্যা দিয়ে ঘটনার স্বাধীন তদন্ত দাবি করেছেন। কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর ও রাশিদা তলাইব এই ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় সহিংসতা আখ্যা দিয়ে আইস সংস্থাটি বিলুপ্ত করার দাবি তুলেছেন। গভর্নর টিম ওয়ালজ এক আবেগঘন সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় সরকারের সৌজন্যবোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘একজন মানুষ তার গাড়ির ভেতরে কোনো কারণ ছাড়াই মরে পড়ে আছেন। এটি অত্যন্ত অন্যায্য এবং পরিহারযোগ্য একটি মৃত্যু।’
বর্তমানে এফবিআই এবং মিনেসোটা ব্যুরো অফ ক্রিমিনাল অ্যাপ্রিহেনশন যৌথভাবে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অপারেশন মেট্রো সার্জের আওতায় প্রায় ২ হাজার ফেডারেল এজেন্ট বর্তমানে মিনিয়াপলিসে অবস্থান করছে, যা স্থানীয় প্রশাসনের সাথে কেন্দ্রীয় সরকারের সরাসরি সংঘাত তৈরি করেছে। নিহত নারীর স্মরণে শহরে বড় ধরনের শোক সভার ডাক দেয়া হয়েছে, যার ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।





