যুক্তরাজ্য
লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী বিগ বেনের বিশাল ঘড়িতে রাত ১২টায় বেজে উঠে ঘণ্টাধ্বনি। এর সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় যুক্তরাজ্যবাসী নতুন বছরের উদযাপন। বিদায়ী বছরের সেরা গানের তালে তালে ছড়িয়ে পড়ে আতশবাজির আলো। লন্ডনে টেমস নদীর তীরে দর্শনীয় আতশবাজি দেখতে ভিড় জমান লাখো মানুষ।
ফ্রান্স
নতুন বছর ঘিরে ফ্রান্সের বিখ্যাত সব স্মৃতিস্তম্ভগুলোকে সাজানো হয় বর্ণিল আলোয়। রঙ-বেরঙের আলোতে ফুটে উঠে প্যারিসের আইফেল টাওয়ার। এছাড়া, নেপোলিয়নের স্মরণে নির্মিত আইকনিক আর্ক ডি ট্রায়াম্ফে চোখ ধাঁধানো আতশবাজি উপভোগ করেন ফরাসিরা।
দুবাই
বর্ষবরণ উদযাপনে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণের জায়গা সংযুক্ত আরব আমিরাত। দুবাইয়ের আইকনিক ভবন বুর্জ খলিফায় চলে আলোর খেলা। আতশবাজির ঝলকানিতে রঙিন হয়ে উঠে দুবাইয়ের আকাশ। এরপর ড্রোন প্রদর্শনীর মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয় নানা স্থাপনা ও প্রতিরূপ। এছাড়াও পানির ওপর আয়োজন ছিলো বর্ণিল ফোয়ারার।
কাতার
কাতারের লুসাইল বুলেভার্ডে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে জড়ো হয় হাজার হাজার মানুষ। মনোমুগ্ধকর আতশবাজির সঙ্গে ছিল গানের আয়োজন। কাউন্টডাউন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়ে সবাই। টাওয়ারগুলোর ওপর চলে ড্রোন প্রদর্শনীও।
গ্রিস
গ্রিসের রাজধানী অ্যাথেন্সের ঐতিহাসিক প্রাচীন স্মৃতিস্তম্ভগুলো রঙিন আতশবাজিতে আলোকিত হয়ে উঠে। আতশবাজির শব্দ দূষণ থেকে সুরক্ষার জন্য পাহাড়ের পাদদেশে অনেকটা নির্জন জায়গায় বর্ষবরণের আয়োজন করে গ্রিসবাসী।
সাউথ আফ্রিকা, কেনিয়া
নতুন বছরের আতশবাজির আলোয় আলোকিত হয়ে উঠে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ। সাউথ আফ্রিকার রাজধানী কেপ টাউনে আয়োজন করা হয় ৫ মিনিটের মনোমুগ্ধকর আতশবাজির প্রদর্শনী। কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতেও নতুন বছরের আতশবাজির প্রদর্শনী উপভোগ করেন হাজারো বাসিন্দা।
নিউজিল্যান্ড
এভাবেই কাউন্টডাউনের মধ্য দিয়ে ২০২৫ সালকে বিদায় এবং ২০২৬ সালকে বরণ করে নিলো নিউজিল্যান্ড। সাড়ে ৩ হাজার আতশবাজির আলোয় বর্ণিল হয়ে ওঠে অকল্যান্ডের আকাশ। অকল্যান্ডের আইকনিক হারবার ব্রিজে ছিলো মনোমুগ্ধকর আলোর ঝলকানি।
৩২৮ মিটার উঁচু স্কাই টাওয়ার ও অকল্যান্ড হারবার ব্রিজ মিলিয়ে মোট ৫শ' কেজি আতশবাজি ফুটিয়ে ২০২৬ সালকে বরণ করেছে নিউজিল্যান্ডবাসী। সবার আগে নিউজিল্যান্ডে বর্ষবরণের আয়োজন হলেও ভৌগলিক অবস্থানের কারণে বিশ্বে নতুন বছর স্বাগত জানানো প্রথম দেশ প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র কিরিবাতি।
আরও পড়ুন:
অস্ট্রেলিয়া
সিডনি হারবার ব্রিজে দৃষ্টিনন্দন আতশবাজি'র মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়াও। ভৌগলিক অবস্থানের কারণে নিউজিল্যান্ডের পরে সবচেয়ে বড় আয়োজনে ২০২৬ সালকে বরণ করে দেশটি। সিডনি হারবার ছাড়াও অপেরা হাউজে ছিলো আতশবাজির ঝলকানি। এসময় আনন্দে মেতে উঠেছেন হাজার হাজার মানুষ।
সিডনিতে ২০২৬ সালকে বরণের ঠিক আগ মুহূর্তে বন্ডাই বিচে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়েছে। নতুন বছর উদযাপন ঘিরে সিডনিতেই মোতায়েন করা হয়েছে আড়াই হাজার পুলিশ।
জাপান
এদিকে ভৌগলিক অবস্থানের কারণে একই সময় নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়েছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। ঐতিহ্যবাহী ঘণ্টা বাজিয়ে ২০২৬ বরণ করা ছাড়াও দু'দেশে ছিলো বর্ণিল আয়োজন। আনন্দে মেতেছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াবাসী।
২০২৬ সালকে বরণ করেছে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশ। আইকনিক মেরিনা বেতে আতশবাজির ঝলকানিতে ২০২৫ সালকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছর বরণ করে নিয়েছে সিঙ্গাপুর। আর প্রেট্রোনাস টুইন টাওয়ারে রঙিন আলো ও আতশবাজি ফুটিয়ে খ্রিস্টীয় বছরকে স্বাগত জানিয়েছে মালয়েশিয়া।
জমকালো আয়োজনে ২০২৬ সালকে স্বাগত জানিয়েছে চীন, তাইওয়ান, হংকংও। এরমধ্যে তাইওয়ানের তাইপেতে থাকা আইকনিক টাওয়ারে ১৬ হাজার আতশবাজি ফুটিয়ে বর্ষবরণ উদযাপন করা হয়েছে। আর ব্যাংককে আতশবাজির পাশাপাশি হাজার হাজার ড্রোন শোয়ের মধ্য দিয়ে নতুন বছর বরণের উৎসবে মেতেছে থাইল্যান্ড। এছাড়াও দেশে দেশে চলছে বর্ষবরণের চোখ ধাঁধানো আয়োজন।





