চলতি শতাব্দীর শেষে দাবানল বাড়তে পারে অন্তত ৫০ শতাংশ

বিদেশে এখন
0

জ্বলছে লস অ্যাঞ্জেলেস, সেই সাথে তৈরি হয়েছে নতুন শঙ্কা। যাতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব স্পষ্ট বিদ্যমান। একদিকে জলবায়ু আকস্মিক পরিবর্তনে সৃষ্টি হচ্ছে দাবানল, আবার দাবানলের কারণেই পরিবর্তন হচ্ছে জলবায়ু। গবেষণা বলছে, চলতি শতাব্দীর শেষে দাবানল বাড়তে পারে অন্তত ৫০ শতাংশ।

যেন হঠাৎ করে বদলে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস। প্রায় ৩ সপ্তাহ ধরে চলা নজিরবিহীন দাবানলে পুড়ে ছাই বেশিরভাগ জনপদ। যার ক্ষতচিহ্নই বলে দেয় কতটা গা-ছমছমে ছিল আগুনের থাবা। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা জোরালো হলেও কোনোমতেই ঠেকানো যাচ্ছে না এর বিস্তার।

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ৪৩ কোটি বছর আগে দাবানলের সূচনা, যার সবশেষ পরিণতি এই লস অ্যাঞ্জেলেস। অঞ্চলটির আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ হওয়া সত্ত্বেও শীত মৌসুমে ঠিক কী কারণে এই দাবানলের হানা তা নিয়ে সরগরম এখন বৈশ্বিক আলোচনার টেবিল।

অনেক অঞ্চলে এমন অগ্নিকাণ্ড নিত্য ঘটনা হলেও এই দাবানলের অস্বস্তি ধীরে ধীরে রূপ নিয়েছে শঙ্কায়। কারণ বিশ্বজুড়ে জলবায়ুর পরিবর্তন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গেল কয়েকবছর আর্দ্রতার কারণে ক্যালিফোর্নিয়ায় বিপুল সংখ্যক গাছপালা জন্মেছে। কিন্তু গতবছরের অনাবৃষ্টিতে দেখা দেয় খরা। যার ফলাফল শীতকালেও অনিয়ন্ত্রিত আগুন। এখানে জলবায়ু বদলে যাওয়ার প্রভাব যে স্পষ্ট, তা বলাই যায়।

গবেষণা বলছে, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাড়ছে দাবানলের পরিমাণ। আবার এই দাবানল বায়ুমণ্ডলে কার্বন নিঃসরণ করে জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটাচ্ছে। সুতরাং তাদের উভয়ের সম্পর্ক পারস্পরিক। তাহলে দাবানলের ভবিষ্যৎ কী?

যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক জরুরি পরিষেবা সংস্থা ওয়েস্টার্ন ফায়ার চিফস অ্যাসোসিয়েশনের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে জলবায়ুর যে প্রভাব তাতে ২০৩০ সালে দাবানল বৃদ্ধি পাবে ১৪ শতাংশ, ২০৫০ সালে যা বেড়ে দাঁড়াবে ৩০ শতাংশে এবং এর পরবর্তী সময়ে অর্থাৎ শতাব্দীর শেষে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। তবে, কী পরবর্তী প্রজন্ম কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে?

আবার গ্রিনহাউজ ইফেক্টের ফলে ক্রমশ উষ্ণতার চাদরে ঢাকা পড়ছে পৃথিবী। দাবানল মোকাবিলায় যা একপ্রকার মরার উপর খাড়ার ঘা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এদিকে নাসার গবেষণায় এ যাবতকালে পৃথিবীর সবচেয়ে উষ্ণতম বছর হিসেবে বিবেচিত হয়েছে ২০২৪। ফলে, দাবানলের আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

অন্যদিকে, দাবানলের অন্যতম কারণগুলোর একটি বজ্রপাত। এতেও রয়েছে জলবায়ুর বিরূপ পরিবর্তনের প্রভাব। ফলে প্রতিবছর বজ্রপাত বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা। যেখানে উকি দিচ্ছে অনিয়ন্ত্রিত আগুন বাড়ার সম্ভাবনা। আর তাই, জলবায়ুর পরিবর্তন রোধে এবছর আজারবাইজানের কপ সম্মেলনেও জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন অংশীজনরা।

গেল কয়েক দশকের পরিসংখ্যান বলছে জলবায়ু বিরূপ পরিবর্তনের পাশাপাশি মানুষের সৃষ্টি কারণও রয়েছে দাবানলের পিছনে। সুতরাং সচেতনতা বাড়ালে এমন অগ্নিকাণ্ড কমার পাশাপাশি প্রকৃতিকেও রক্ষা করা সম্ভব।

ইএ