সামাজিক মাধ্যমে আসক্তি: মেটা ও গুগলকে দোষী সাব্যস্ত

সামাজিক মাধ্যমে আসক্তি
সামাজিক মাধ্যমে আসক্তি | ছবি: এখন টিভি
0

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তির দায়ে যুগান্তকারী এক মামলায় প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটা ও গুগলকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দিয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেসের জুরি বোর্ড। রায়ে বলা হয়, ইচ্ছাকৃতভাবে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপের মতো সামাজিক মাধ্যমগুলো আসক্তি ছড়াচ্ছে। ২০ বছর বয়সি বাদী ভুক্তভোগীকে ৩০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সব অভিযোগ অস্বীকার করে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে মেটা ও গুগল।

মেটা প্ল্যাটফর্ম ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও গুগলের ইউটিউব জেনেবুঝে এমনভাবে তাদের অ্যাপের নকশা করেছে যেন তা শিশুদের ভেতর আসক্তি তৈরি করে। সম্প্রতি এ অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় দুই প্রযুক্তি জায়ান্টের বিরুদ্ধে মামলা করেন ২০ বছর বয়সি এক তরুণী।

অবশেষে, লস অ্যাঞ্জেলেস-ভিত্তিক এক জুরি বোর্ড নয় দিন ধরে ৪০ ঘণ্টারও বেশি সময় আলোচনার পর, মেটা ও গুগলকে দোষী সাব্যস্ত করে ঐতিহাসিক রায় দিলো। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, অল্পবয়সী ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্যে নোটিফিকেশন ও অটোপ্লের মতো ফিচারগুলো নকশা করা হয়েছে। যার প্রমাণ মিলেছে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ নথিতেও, এমনই দাবি আইনজীবীদের।

বাদী পক্ষের আইনজীবী মার্ক ল্যানিয়ার বলেন, ‘জুরি বোর্ড প্রমাণ পেয়েছে যে, মেটা ও ইউটিউব উভয়ই তাদের প্ল্যাটফর্মটি ডিজাইন ও পরিচালনায় অবহেলা করেছে। একটি যুক্তিসংগত কোম্পানি হিসেবে যে সতর্কবার্তা দেয়া উচিত ছিলো, মেটা তা দিতে ব্যর্থ।’

আরও পড়ুন:

মামলার বাদী ক্যালিকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৩০ লাখ ডলার দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে জুরি বোর্ড। যার ৭০ শতাংশ মেটা এবং ৩০ শতাংশ ইউটিউব বহন করবে। ভুক্তভোগী জানান, অল্প বয়সেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্ত হওয়ার ফলে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় পড়েন।

মামলার বাদী বলেন, ‘তারা ভয়ংকর সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছিল। বাচ্চাদের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে অর্থ উপার্জন করে চলছে এসব প্রতিষ্ঠান।’

এদিকে, আদালতের এ রায়ের সঙ্গে একমত নয় বলে জানায় মেটা ও গুগল। রায়ের বিরুদ্ধে দুই প্রতিষ্ঠানই আপিল করছে। মেটা জানায়, কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য অত্যন্ত জটিল, যা কোনো নির্দিষ্ট অ্যাপ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। আর গুগলের অভিযোগ, মামলায় ইউটিউবকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া মামলার শুনানিতে ছিলেন মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গ এবং ইনস্টাগ্রাম প্রধান অ্যাডাম মোসেরি। যদিও ইউটিউবের প্রধান নির্বাহী নীল মোহনকে সাক্ষীর জন্য ডাকা হয়নি।

যুগান্তকারী এ রায় যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে বিচারাধীন এরকম শত শত মামলায় বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এতো অল্প বয়সে টেক জায়ান্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করা এবং আদালতে নিজের গল্প তুলে ধরে নিজের সাহসের পরিচয় দিয়েছেন ক্যালি।

জেআর