বেড়েছে জীবনযাত্রার ব্যয়; বাসযোগ্যতার সূচকে নেমেছে টরোন্টো

কানাডার টরোন্টো শহর
কানাডার টরোন্টো শহর | ছবি : সংগৃহীত
0

চলতি বছরে প্রকাশিত গ্লোবাল লাইভেবিলিটি ইনডেক্সে বিশ্বের শীর্ষ ১০ বাসযোগ্য শহরের তালিকায় নেই কানাডার টরোন্টো। এবার সূচকে শহরটির অবস্থান ১৬ তম। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সূচকে পিছিয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন শহরটির বাসিন্দারা।

দিনের আলোয় পাহাড়, সমুদ্র আর সবুজের মেলবন্ধনে যেন জীবন্ত এক ক্যানভাস ভ্যাঙ্কুভার। ব্যস্ত নগরজীবনের মাঝেও প্রকৃতির সান্নিধ্য, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ আর স্বস্তির ছোঁয়া শহরটিকে দিয়েছে আলাদা এক পরিচয়। তাই তো শুধু সৌন্দর্যেই নয়, জীবনমানের নানা সূচকেও বিশ্বের অন্যতম সেরা শহরের স্বীকৃতি ধরে রেখেছে কানাডার এই নগরী।

তবে পশ্চিমের শহর ভ্যাঙ্কুভার জায়গা ধরে রাখলেও পিছিয়ে পড়েছে টরন্টো। শীর্ষ ১০-এ নেই কোটি মানুষের জীবিকার এ প্রাণকেন্দ্র। বিশ্লেষকদের মতে, আবাসনের লাগামহীন মূল্য, বাড়িভাড়া বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবায় দীর্ঘ অপেক্ষা, যানজট এবং দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে শহরটির বাসযোগ্যতার মানে চাপ তৈরি হয়েছে।

টরন্টোর ব্যবসায়ী এ কে আজাদ বলেন, ‘যারা এখানে পরিবার নিয়ে আছেন তাদের জন্য খুব কষ্টকর এখানে বসবাস করা। যারা ৩ হাজার ডলার ইনকাম করে তাদের এর থেকে বেশি খরচ হয়। এটি একটি ব্যয়বহুল শহর।’

আরও পড়ুন:

স্বাস্থ্যসেবা কতটা সহজলভ্য, শিক্ষা কতটা মানসম্মত কিংবা অবকাঠামো কতটা কার্যকর- এমন কিছু সূচকের সমন্বয়েই নির্ধারণ করা হয় সেরা শহর। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের ২০২৫ সালের গ্লোবাল লাইভেবিলিটি ইনডেক্সে ১৭৩টি শহরের মধ্যে নবম অবস্থানে কানাডার ভ্যাঙ্কুভার। স্থিতিশীলতা, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, উচ্চমানের শিক্ষা, কার্যকর অবকাঠামো এবং সংস্কৃতি ও পরিবেশ- প্রায় সব সূচকেই এগিয়ে শহরটি।

টরন্টোর অনেক বাসিন্দার ভাষ্য, এখনও কর্মসংস্থান ও সুযোগের কেন্দ্র হলেও প্রতিদিনের জীবন আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যয়বহুল এবং চাপপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই ১৬ নম্বরে চলে গেছে টরন্টো।

বাংলাদেশি প্রবাসীদের একজন বলেন, ‘নিত্যপণ্যর দাম হাতের নাড়ালের বাহিরে চলে গেছে। স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে সবকিছুর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, সূচক শুধু একটি ক্রম নয়। এটি যেকোনো শহরের সামগ্রিক জীবনমানের প্রতিচ্ছবি। সেই বিবেচনায় ভ্যাঙ্কুভার আবারও নিজেদের অবস্থান শক্ত রাখতে পেরেছে। আর টরন্টোর জন্য এটি একটি সতর্কবার্তা- বিশ্বমানের শহর হিসেবে অবস্থান ধরে রাখতে হলে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা এবং অবকাঠামো খাতে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার দাবি।

এফএস