অনিশ্চয়তায় যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীরা, হোম অফিসের কড়া পর্যালোচনা

ব্রিটেনের সড়কে বিভিন্ন দেশ আগত অভিবাসিরা
ব্রিটেনের সড়কে বিভিন্ন দেশ আগত অভিবাসিরা | ছবি: এখন টিভি
0

যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উদ্বেগে হাজারো বাংলাদেশি পরিবার। দেশে ক্ষমতার পালাবদলে বদলে গেছে আশ্রয়ের বাস্তবতা। বিএনপি–জামায়াতের উত্থানের পর ব্রিটিশ হোম অফিস শুরু করেছে কড়া পর্যালোচনা। এতে নতুন আবেদনকারী তো বটেই, আগেই আশ্রয় পাওয়া ব্যক্তিরাও পড়েছেন অনিশ্চয়তায়।

যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করে বিপাকে কয়েক হাজার বাংলাদেশি। দেশে ক্ষমতাসীন বিএনপি আর বিরোধী দলে জামায়াতে ইসলামী- ফলে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী কয়েক হাজার বাংলাদেশি ও তাদের পরিবার পড়েছেন চরম আইনি অনিশ্চয়তার মুখে।

দীর্ঘ ১৭ বছর পর বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদলের ফলে অতীতে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থক দাবি করে যারা আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন, তাদের আবেদন কঠোরভাবে পর্যালোচনা করছে হোম অফিস।

যুক্তরাজ্যের সলিসিটর এমডি মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বিএনপির যারা এখানে এসে রেফিউজি স্ট্যাটাস পেয়েছেন বা এখনো যাদের পেন্ডিং আছে তাদেরকে বলা হবে তোমাদের তো এখন রিস্ক অন রিটার্ন নাই, কারণ তুমি যেই দলের ছিলে সেই দল এখন ক্ষমতায় আছে। সেজন্য তোমরা দেশে গেলে এখন পারসিকিউটেড হবে না।’

আরও পড়ুন:

আন্তর্জাতিক শরণার্থী আইনের মূল ভিত্তি হলো নিজ দেশে রাজনৈতিক কারণে ‘সুনির্দিষ্ট নিপীড়নের ভয়’। গত দেড় দশকে কয়েক হাজার বাংলাদেশি দাবি করেছিলেন যে, বিএনপি বা জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় তারা তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের রোষানলে পড়েছেন। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইতোমধ্যে যাদের আশ্রয় মঞ্জুর হয়েছে তারাও বিপদে পড়তে পারেন।

যুক্তরাজ্যের সলিসিটর এম কিউ হাসান বলেন, ‘প্রটেকশনের কারণে তাদেরকে যেই রেফিউজি স্ট্যাটাস দেয়া হয়েছিল, সেই প্রটেকশন যদি তার কান্ট্রি অব অরিজিনে যদি আর প্রয়োজনে না হয় সেক্ষেত্রে তাদের রেফিউজি স্ট্যাটাস রিভিউ করতে পারে হোম অফিস এবং রেফিউজি স্ট্যাটাসটা তারা উঠিয়ে নিয়ে পারে।’

হোম অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ সালেও যুক্তরাজ্যে আশ্রয় আবেদনকারী শীর্ষ পাঁচটি দেশের তালিকায় ছিল বাংলাদেশ। ২০২৪ সালে মোট ৭ হাজার ২২৫ জন বাংলাদেশি রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ সরকার একটি ব্যাপক বিতাড়ন কর্মসূচি শুরু করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এএম