দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা ইউরোলজিস্টদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, তাইওয়ান, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের ১৯ জন বিদেশি বিশেষজ্ঞ ইউরোলজিস্ট উপস্থিত ছিলেন। বিদেশী অতিথিদের পাশাপাশি ৮৩০ জন বাংলাদেশি এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে রেজিস্ট্রেশন করেন।
দেশ-বিদেশের অতিথিদের উপস্থিতিতে সম্মেলনে ইউরোলজি চিকিৎসার আধুনিক পদ্ধতি, নতুন গবেষণা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা বিনিময় নিয়ে একাধিক বৈজ্ঞানিক সেশন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিশিষ্ট ইউরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. মো. রফিকূল ইসলামের গবেষণাধর্মী প্রেজেন্টেশন। তিনি ‘টোটাল টিউবলেস মিনি-পিসিএনএল শীর্ষক উপস্থাপনায় কিডনির জটিল পাথর অপসারণে ব্যবহৃত আধুনিক ও মিনিমালি ইনভেসিভ এই পদ্ধতির কার্যকারিতা, নিরাপত্তা, চিকিৎসা-ফল এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এর সম্ভাবনা তুলে ধরেন।
প্রেজেন্টেশনে জানানো হয়, ‘টোটাল টিউবলেস মিনি-পিসিএনএল’ এমন একটি আধুনিক সার্জিক্যাল পদ্ধতি, যার মাধ্যমে কোনো ধরনের নেফ্রোস্টমি টিউব বা অতিরিক্ত ড্রেনেজ টিউব ব্যবহার ছাড়াই জটিল কিডনির পাথর অপসারণ করা সম্ভব। এর ফলে রোগীর অস্ত্রোপচার-পরবর্তী ব্যথা ও শারীরিক অস্বস্তি কম হয়, হাসপাতালে থাকার সময় হ্রাস পায় এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
গবেষণাপত্র উপস্থাপনের পাশাপাশি অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম দুইটি সায়েন্টিফিক প্রেজেন্টেশনে চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব পালন করেন।
অধ্যাপক ডা. মো. রফিকূল ইসলাম বলেন, বিশ্বব্যাপী সমাদৃত এ প্রযুক্তির বিস্তৃত প্রয়োগ বাংলাদেশের ইউরোলজি চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে এবং রোগীদের জন্য আরও আধুনিক ও কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
বাউস-এর আহবায়ক অধ্যাপক ডা. মো. শফিকুর রহমান, সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, অধ্যাপক ডা. এম এ সালাম, অধ্যাপক ডা. জাহাঙ্গীর কবির, অধ্যাপক ডা. নাসিরুদ্দিন কাজলসহ বিভিন্ন হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের দেশবরেণ্য স্বনামধন্য চিকিৎসকরা সম্মেলনে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন ও চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব পালন করেন।
আয়োজকরা জানান, এ ধরনের আন্তর্জাতিক মানের বৈজ্ঞানিক সম্মেলন দেশের ইউরোলজি চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়ন, চিকিৎসকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির প্রসার এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে রোগীদের জন্য আরও উন্নত ও যুগোপযোগী চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতেও এসব আয়োজন কার্যকর অবদান রাখবে।





