আজ (রোববার, ১০ মে) দুপুরে কক্সবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
মারা যাওয়া শিশুদের একজন কক্সবাজার পৌরসভার বাদশাহঘোনা এলাকার বাসিন্দা মো. ফারুকের ৫ মাস বয়সী ছেলে মিফতাহুল। পরিবার সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিল শিশুটি। গত ৭ মে দুপুরে তাকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮ মে দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
অপরদিকে, চকরিয়া উপজেলার বাসিন্দা রফিকুল ইসলামের ৯ মাস বয়সী ছেলে আবু রাফসানও হাম উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রথমে জ্বর ও কাশির উপসর্গ দেখা দেয়। গত ৩ মে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শেষ পর্যন্ত ৭ মে দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, চলতি বছরের ২৯ মার্চ থেকে ১০ মে পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় হাম-উপসর্গে মোট ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু। এর মধ্যে মহেশখালী উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ৯ জন মারা গেছেন। এছাড়া উখিয়ায় ৩ জন, চকরিয়ায় ২ জন এবং টেকনাফ, কুতুবদিয়া ও রামুতে একজন করে মারা গেছে।
আরও পড়ুন:
একই সময়ে জেলায় আক্রান্তের সংখ্যাও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৫২ জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে ২৯ মার্চ থেকে ১০ মে পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৮০ জনে।
উপজেলাভিত্তিক আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী রয়েছে মহেশখালী উপজেলায়। সেখানে মোট আক্রান্ত ৩৭৪ জন। এছাড়া চকরিয়ায় ২৭৭ জন, পৌরসভা এলাকায় ২৩৫ জন, টেকনাফে ২০৬ জন, সদরে ১৯৯ জন, রামুতে ১৯৬ জন, উখিয়ায় ১৪৮ জন, পেকুয়ায় ৬৬ জন, অন্যান্য এলাকায় ৫৯ জন এবং কুতুবদিয়ায় ২০ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
কক্সবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয় জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে জেলার ৮টি হাসপাতালে মোট ১৪৪ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
কক্সবাজারের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। শিশুদের নির্ধারিত সময়ে হাম-রুবেলা টিকা না দিলে ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই শিশুদের দ্রুত টিকার আওতায় আনার পাশাপাশি জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া কিংবা শরীরে লালচে দানা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।





