আসগর আলী মেডিকেলে অক্সিজেন থেরাপি প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

আসগর আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে
আসগর আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে | ছবি: সংগৃহীত
0

অক্সিজেন থেরাপি, এয়ারওয়ে ম্যানেজমেন্ট এবং জরুরি শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত চিকিৎসায় ভবিষ্যৎ ডাক্তারদের দক্ষ করে তুলতে আসগর আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ‘মাস্টারিং অক্সিজেন থেরাপি: এন এ-জেড প্র্যাক্টিক্যাল ট্রেনিং প্রোগ্রাম’ শীর্ষক একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ মেডিকেল স্টুডেন্টস সোসাইটির (বিএমএসএস) এসসিওএমই বিভাগের উদ্যোগে আজ (শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি) এ কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষ ও উচ্চতর বর্ষের ৬০ জন মেডিকেল শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

এ কর্মশালার মূল লক্ষ্য ছিল অক্সিজেন থেরাপি, এয়ারওয়ে ম্যানেজমেন্ট এবং জরুরি শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় মেডিকেল শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে দক্ষ করে তোলা। সিমুলেশন এবং স্কিল-স্টেশন ভিত্তিক এ প্রশিক্ষণ শিক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক জ্ঞানকে বাস্তব ক্লিনিক্যাল প্রয়োগের সঙ্গে যুক্ত করতে সহায়তা করে এবং বাস্তব জীবনের জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত হতে সাহায্য করে।

কর্মশালার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিলেন এমডি (সিসিএম), এফআরসিপি, কনসালট্যান্ট ও হেড, ডিপার্টমেন্ট অব ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন, আসগর আলী হাসপাতাল এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ সোসাইটি অব ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিনের (বিএসসিসিএম) লেকচারার ডা. মতিউল ইসলাম।

তিনি তার বক্তব্যে ক্রিটিক্যাল কেয়ারে অক্সিজেন থেরাপির সঠিক প্রয়োগ, রোগীভেদে অক্সিজেন ডেলিভারি ডিভাইস নির্বাচন, হাইপক্সিয়া ব্যবস্থাপনায় দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্ব এবং বাস্তব ক্লিনিক্যাল পরিস্থিতিতে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এসময়ে তিনি উল্লেখ করেন, সঠিক সময়ে সঠিক অক্সিজেন থেরাপি প্রয়োগ অনেক ক্ষেত্রে রোগীর জীবন রক্ষা করতে পারে এবং এজন্য মৌলিক স্কিলগুলোতে দক্ষ হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

কর্মশালায় রাজধানীর আসগর আলী হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিনের অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ডা. মতিউল ইসলাম, ডা. রাজিব হাসান, ডা. মুহাম্মদ রাবিউল হালিম, ডা. এএইচএম হাফিজুর রহমান, ডা. কাজী নুরউদ্দিন আহমেদ, ডা. আতীকুজ্জামান, ডা. তারিকুল হামিদ এবং চিফ রেসপিরেটরি থেরাপিস্ট মি. খায়রুল বাশার। তাদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীরা বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পান।

হ্যান্ডস-অন সেশন চারটি স্টেশনে বিভক্ত ছিল এবং অংশগ্রহণকারীদের ছোট ছোট দলে ভাগ করে পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এতে বিভিন্ন অক্সিজেন ডেলিভারি ডিভাইস ও এয়ারওয়ে অ্যাডজাঙ্ক্ট ব্যবহার, অক্সিজেন প্রেসক্রিপশন, ইএমএস-এ অক্সিজেন থেরাপি ও মনিটরিং এবং এনআইভি, এইচএফএনসি ও মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশন সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রতিটি স্টেশনে অংশগ্রহণকারীরা সরাসরি অনুশীলনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ক্লিনিক্যাল দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পান।

আয়োজকরা জানান, এ ধরনের স্কিল-ভিত্তিক প্রশিক্ষণ ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের জরুরি পরিস্থিতিতে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কাজ করতে সহায়তা করবে। সীমিত আসনের এই কর্মশালাটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে এবং অংশগ্রহণকারী ছিলেন ৬৫ এরও বেশি মেডিকেল শিক্ষার্থী, দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ থেকে।

শিক্ষার্থীরা প্রশিক্ষণকে অত্যন্ত কার্যকর ও সময়োপযোগী হিসেবে উল্লেখ করেন। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চিকিৎসকদের বাস্তব ক্লিনিক্যাল দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এএম